চাঁদাবাজির মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও সহযোগী কারাগারে

- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে থাকা হাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার সাতক্ষীরার আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে মুক্ত থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। এছাড়াও তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২৩ মে দুপুরে প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকে মারধর এবং জাহিদের অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরায় এসব ঘটনার প্রমাণ রয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাই প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা জরুরি।




























