হত্যাচেষ্টা মামলায় আগাম জামিন পেলেন জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল

- আপডেট সময় : ০৬:১৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে এই জামিন মঞ্জুর করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। ভিডিওতে তাকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। ওই তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহের জেরে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওবায়দুর রহমান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার 'রোজ গার্ডেন টাওয়ারে' তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সুবাদে সাবেক এই এমপি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে ওবায়দুরের ভাগ্নির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, মগবাজারের একটি চক্র সাবেক এমপি ও তার ভাগ্নির কিছু ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপনে ওই ভিডিও ধারণ করে গণমাধ্যম ও ব্ল্যাকমেইলার চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।
বাদীর দাবি, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে মামলার অন্যতম আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। ওই সময় ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর গত ২২ জুলাই বিকেলে দলের এক জরুরি বৈঠকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
























