ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় পদত্যাগ করলেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা

- আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো। সাবেক যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কর্দেইরো এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি এর ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, একজন সাবেক ব্যাংকার ও আজীবন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির এই পরিকল্পনার বিষয়ে নীরব থাকতে পারেন না। কর্দেইরো আরও উল্লেখ করেন, এটি ফিফার সদস্য দেশ, ফুটবল এবং খেলার দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত খারাপ চুক্তি।
কর্দেইরোর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগেই এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, উয়েফা এবং কনকাকাফের মতো সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাও এখন প্রকাশ্যে আলোচিত হচ্ছে। ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, তাদের সবার জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন, যিনি অসন্তোষের প্রতীক হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালও বয়কট করেছিলেন, বলেছেন, ফুটবল কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর কোনো অংশই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও যোগ করেন, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যায় না, যাদের প্রথম দায়িত্ব শুধু আর্থিক মুনাফা বাড়ানো; জাতীয় ফুটবল সংস্থা, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থ কখনোই বিনিয়োগকারীদের মুনাফার নিচে চলে যেতে পারে না।
ফিফার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে, যা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে এবং এর একটি সংখ্যালঘু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিফা প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালের শুরুতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকটি এককালীন ২ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের উন্নয়ন তহবিলও ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে।
এতসব সমালোচনার মুখেও ফিফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সদস্য দেশগুলোর মতামত গ্রহণের জন্য একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না এবং এটি এমন কিছু নয় যা ফিফা কখনো করতে চায়। ফিফার দাবি, গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশের কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। উয়েফা ও কনকাকাফের উদ্বেগগুলো শোনার কথা জানিয়ে ফিফা বলেছে, প্রতিটি সদস্য দেশ যেন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে জন্য পরামর্শ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


















