স্পেনে প্রবেশের চেষ্টায় সাগরে প্রাণ গেল ৫৭ অভিবাসীর

- আপডেট সময় : ১১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় প্রবেশের চেষ্টাকালে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে স্পেনের এই ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে শুক্রবার স্পেন সরকার নিশ্চিত করেছে। এর আগে সিউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস নিহতের সংখ্যা ৩৪ জন বলে জানিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সিউতা সফর করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সীমান্তে পৌঁছানো অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে অভিবাসীদের পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মানবপাচারকারী চক্র স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে এত মানুষ সীমান্তে ভিড় করেছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; তাদের মতে, অধিকাংশ অভিবাসী ওই রায় সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম লঙ্ঘন করে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। তিনি সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ফ্রান্স স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নিয়েছে; পাশাপাশি ফ্রান্স-স্পেন সীমান্তে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন, যদিও ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই।
স্থানীয় সিউতা সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়ে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে।
















