ফরিদপুরে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই অপরাধ সংঘটিত হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তার মা ও দাদি চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে ওই কিশোরী তার ছোট ভাই ও বোনের সঙ্গে ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে তারা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে।
ভুক্তভোগীর ছোট বোন জানায়, সশস্ত্র ব্যক্তিরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা একটি মোটরসাইকেলে করে তাকে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত ৩টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় এলাকাবাসী দুইজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক সালমা জাহান জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার বাম হাতে আঘাত, পেটে লাথি মারার জখম এবং বুকের ওপর ও গালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া গালে থাপ্পড় দেওয়ার চিহ্নও রয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকদের জানিয়েছে, তিনজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আটককৃত দুই যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগীর মা ঘটনার সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

























