চ্যাটজিপিটি দিয়ে ৮০ দশকের ভিনটেজ ছবি তৈরির সহজ উপায়
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন এক ট্রেন্ডে মেতেছেন নেটিজেনরা। পুরোনো দিনের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল আর ফিল্মি আবহ ফুটিয়ে তুলে নিজেদের ছবিকে তারা রূপ দিচ্ছেন ১৯৮০-এর দশকের স্মৃতির মতো করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে তৈরি করা এসব ছবি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খুব সাধারণ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে যে কেউ নিজের বর্তমান সময়ের ছবিকে ৮০-এর দশকের আমেজে বদলে নিতে পারেন।
এই ট্রেন্ডের মূল বিষয় হলো, বর্তমানের একটি সাধারণ ছবিকে চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে সেটিকে ১৯৮০-এর দশকের ছবির মতো রূপান্তর করা। কেবল সাধারণ কোনো ভিনটেজ ফিল্টার ব্যবহারের চেয়ে এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারিশমা অনেক বেশি। এটি ছবির পোশাক, চুলের স্টাইল, মেকআপ বা সাজসজ্জা, পটভূমি এবং আলোর বিন্যাসও সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীরা চাইলে পুরোনো দিনের বলিউডের স্টুডিও পোর্ট্রেট, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় যৌথ পরিবারের অ্যালবামের ছবি কিংবা ১৯৮০-এর দশকের গ্ল্যামারাস হলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেটের স্টাইলে নিজেদের ছবি তৈরি করে নিচ্ছেন। এই ছবিগুলোতে সাধারণত বড় আকারের হেয়ারস্টাইল, উজ্জ্বল রঙের পোশাক, নরম আলো, পুরোনো স্টুডিও বা ঘরের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং এ্যানালগ ক্যামেরার মতো হালকা ফিল্ম গ্রেইন দেখা যায়।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে এই চমৎকার ছবিগুলো তৈরি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে চ্যাটজিপিটি খুলে একটি নতুন চ্যাট বা কথোপকথন শুরু করতে হবে। এরপর নিচের ‘+’ বোতামে চাপ দিয়ে নিজের একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হবে। এরপরের ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ৩: ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকে তোলা ছবির মতো করে দিতে বলুন।ধাপ ৪: কেমন ছবি চান, তা বিস্তারিত লিখুন। পোশাক, চুলের ধরন, গয়না বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস, পটভূমি, আলো এবং ছবির ধরন উল্লেখ করতে পারেন।ধাপ ৫: ব্যক্তির চেনা মুখ, মুখের গড়ন ও স্বাভাবিক ত্বকের রং যেন বজায় থাকে, তা নির্দেশ করুন।ধাপ ৬: প্রথমবারের ফলাফল পছন্দ না হলে নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে আবার চেষ্টা করুন।ধাপ ৭: ছবি পছন্দ হলে সেটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে ‘Add Yours’ স্টিকার ব্যবহার করে বন্ধুদেরও এই ট্রেন্ডে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।নিখুঁত ছবি পাওয়ার জন্য চ্যাটজিপিটিতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রম্পট বা নির্দেশনা ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, বলিউডের ছবির মতো করে তৈরি করতে চাইলে প্রম্পট দেওয়া যায়: “এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের বলিউড চলচ্চিত্রের প্রচারণামূলক ছবির মতো করে তৈরি করুন। আমার স্বাভাবিক মুখের বৈশিষ্ট্য ও ত্বকের রং অপরিবর্তিত রাখুন। ১৯৮০-এর দশকের ভারতীয় পোশাক, চুলের স্টাইল ও আনুষঙ্গিক জিনিস যোগ করুন। উষ্ণ স্টুডিও আলো, হালকা সফট ফোকাস, সূক্ষ্ম ফিল্ম গ্রেইন এবং কিছুটা ফিকে রং ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন ভারতে ১৯৮০-এর দশকে তোলা সত্যিকারের একটি ছবি মনে হয়। অতিরিক্ত ভিনটেজ ইফেক্ট, সেপিয়া রং বা কৃত্রিমভাবে পুরোনো করে দেওয়ার প্রভাব ব্যবহার করবেন না।”
আবার পারিবারিক ছবির আমেজ পেতে প্রম্পট হতে পারে: “এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের একটি ভারতীয় পারিবারিক ছবির মতো করে তৈরি করুন। সে সময়ের উপযোগী পোশাক ও চুলের স্টাইল ব্যবহার করুন। সাধারণ ঘরের পটভূমি, নরম আলো, বাস্তবসম্মত ফিল্মের রং এবং অ্যানালগ ক্যামেরায় তোলা ছবির মতো হালকা টেক্সচার রাখুন। ছবিটি যেন পুরোনো পারিবারিক অ্যালবামের একটি সত্যিকারের ছবি মনে হয়।”
অন্যদিকে হলিউড স্টাইলের জন্য প্রম্পট দেওয়া যায়: “এই ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি গ্ল্যামারাস হলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেটের মতো করে তৈরি করুন। আমার মূল মুখের বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রাখুন। ১৯৮০-এর দশকের উপযোগী চুল, মেকআপ ও পোশাক যোগ করুন। নাটকীয় স্টুডিও আলো, সফট ফোকাস এবং সূক্ষ্ম ফিল্ম গ্রেইন ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন বাস্তবে ১৯৮০-এর দশকে তোলা হয়েছে বলে মনে হয়।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রম্পটে কেবল ‘পুরোনো ছবি’ বা ‘ওল্ড ফটো’ লিখলে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। তাই ছবির সময়কাল, পোশাক, চুলের স্টাইল, পটভূমি, লাইটিং এবং ছবির সামগ্রিক পরিবেশ যত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা যাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তত বেশি নিখুঁত ছবি তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কৃত্রিম ফিল্টার বা সেপিয়া টোন এড়িয়ে ছবিকে স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিলে ছবিগুলো দেখতে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়।




























