ভেনিস উৎসবের স্বপ্নপূরণ শেষে ময়মনসিংহে শুটিংয়ে যাচ্ছেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ও মডেল সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের স্বপ্নপূরণ শেষে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন। তবে বিশ্রামের সুযোগ নেই; দুই দিন আগেই দেশে ফেরা এই তারকা ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহে চার দিনের একটি একক নাটকের শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় এই নাটকে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন ইয়াশ রোহান। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার মাধ্যমে ভেনিস উৎসবে যোগ দিয়ে এক দারুণ অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন তিনি।
ভেনিস সফরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সুনেরাহ্ বলেন, সেখানে তিনি প্রচুর প্রশংসা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। অনেকেই তাঁর রূপ, বাচনভঙ্গি ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিচালক, প্রযোজক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। এমনকি নুহাশ হুমায়ূনের স্বল্পদৈর্ঘ্য হরর চলচ্চিত্র ‘মশারি’ দেখার পর ভেনিসের অনেকেই তাঁকে চিনতে পেরেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিছু বিদেশি প্রযোজক তাঁর যোগাযোগ নম্বরও রেখে দিয়েছেন।
রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় সুনেরাহ্ একটি ‘গোস্ট-ব্রাইড’ বা ভূত-কনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চরিত্রের শুটিং অভিজ্ঞতা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে ভারী ব্রাইডাল মেকআপ নিতে হতো তাঁকে। ডিজাইনার সারা করিমের নকশা করা ভারী লেহেঙ্গা, গয়না, ওড়না ও ফেক নেইলসের কারণে শুটিং চলাকালীন সারা দিন ওয়াশরুমে যাওয়ারও সুযোগ থাকত না। সিনেমাটির শুটিং হয়েছে রুবাইয়াত হোসেনের নিজের বাসায় টানা সাত-আট দিন ধরে। এই সিনেমায় সুনেরাহর মেকআপের দায়িত্বে ছিল নাভিন আহমেদের গ্ল্যাম মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালন।
উৎসবে সুনেরাহর ফ্যাশন সচেতনতা সবার নজর কেড়েছে। তিনি কোনো প্রিন্টেড পোশাক না পরে ক্ল্যাসিক মনোক্রোম লুক বেছে নিয়েছিলেন। নিজের সংগ্রহ থেকে সাদা রেট্রো প্যান্ট ও ট্যাংক টপে সেজেছিলেন তিনি। এছাড়া জারার ক্রপ টপ ও ডেনিম জ্যাকেট পরে বিমানবন্দর লুক তৈরি করেছিলেন। রেড কার্পেটে তাঁর পরিহিত গোলাপি জামদানির সঙ্গে মানানসই গয়না স্পনসর করেছিল ‘গ্লুড টুগেদার’। অন্যদিকে, প্রাডার ককটেল পার্টির জন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘জোয়ান অ্যাশ’ তাঁর শরীরের মাপে তিনবার ট্রায়াল দিয়ে একটি বিশেষ কাস্টমাইজড স্ট্র্যাপলেস করসেট টপ ও মারমেইড স্কার্ট তৈরি করেছিল। সেখানে উপস্থিত অনেকেই তাঁর স্মার্টনেস ও ইংরেজি বলার দক্ষতার প্রশংসা করেন। সামিয়া খানের নকশি স্টিচের একটি সিল্ক স্কার্টও তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন, যা পরে স্পেনের একটি জাদুঘরে বেড়ানোর সময় পরেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে সুনেরাহ্ ২০১৫ সাল থেকে ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘এক্সট্যাসি’তে কর্মরত আছেন, যেখানে তিনি বর্তমানে মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি মডেলদের স্টাইলিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি এই ব্র্যান্ডের মডেলিং শুরু করেন। ফিটনেস নিয়ে সুনেরাহ্ জানান, তিনি কোনো নিয়মিত ওয়ার্কআউট করেন না, তবে প্রচুর হাঁটেন ও যোগব্যায়াম করেন। আগে তিনি গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে হাঁটতেন, তবে এখন মানুষ চিনে ফেলায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা কিংবা ঢাকার বাইরে ও দেশের বাইরে হাঁটতে পছন্দ করেন। থাইল্যান্ড তাঁর পছন্দের ভ্রমণ গন্তব্য হলেও এখন ভেনিস তাঁর তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে।
খাবারের ব্যাপারে সুনেরাহর কোনো কঠোর ডায়েট নেই। সকালে ভাত, রুটি, সবজি, ডিম বা মাংসের পাশাপাশি কখনো সসেজ ও ডিমসেদ্ধ দিয়ে ইংলিশ ব্রেকফাস্ট করেন। দুপুরে ও রাতেও স্বাভাবিক খাবার খান। পোলাও ও খিচুড়ির সঙ্গে সফট ড্রিংকস এবং চিজ তাঁর ভীষণ প্রিয়। একা থাকতে ভয় পাওয়া এই অভিনেত্রী বনানীতে বাবা-মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন। দুটি হরর সিনেমায় অভিনয় করলেও বাস্তবে একা থাকতে ভয় পান তিনি। তবে মজার ছলে সুনেরাহ্ বলেন, বাস্তবে যারা তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের ভয় দেখানোর জন্য তিনি কিছু সময়ের জন্য ‘পেতনি’ হতে চান। সবশেষে নিজের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস নিয়ে তিনি হাসতে হাসতে নিশ্চিত করেন যে, তিনি এখন পুরোপুরি ‘সিঙ্গেল’।





























