সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তরুণদের নেতৃত্বে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদ যে ‘তৃতীয় ধারা’ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা আজ বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, নীতিগত বিচ্যুতি এবং রাজনৈতিক কৌশলের কারণে দলটি তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক টানাপোড়েন দলটির সাংগঠনিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং রাজনীতির মাঠে যে সম্ভাবনা ছিল, তা এখন ম্লান হয়ে পড়েছে।
২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’। এই ব্যানারে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয়লাভ করে দলটি। এরপর ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ‘গণঅধিকার পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থের মতো চার মূলনীতি নিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হলেও দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়।
২০২৩ সালের জুনে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক একে অপরকে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন অংশ তাকে সভাপতি ও মুহাম্মদ রাশেদ খানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে। অন্যদিকে রেজা কিবরিয়া আলাদা কার্যক্রম চালালেও শেষপর্যন্ত ৩১ ডিসেম্বর দল ত্যাগ করেন। এরপর ২০২৪ সালের জুনে দুই পক্ষ একত্রিত হওয়ার উদ্যোগ নেয়। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ‘ট্রাক’ প্রতীকসহ দলটিকে নিবন্ধন প্রদান করে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দলটি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মো. রাশেদ খান দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সংসদে দু-একজন প্রতিনিধি থাকা আর দল হিসেবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এক বিষয় নয়। বর্তমানে দলটির গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার সময়ের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। আলতাফ পারভেজ বলেন, দলটি মূল লক্ষ্য হারিয়ে বিএনপির জোটে বিলীন হয়ে গেছে, যা তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য সংকট তৈরি করেছে। তবে মুখপাত্র আবু হানিফ জানান, তারা সরকারের অংশ হওয়ায় রাজপথে কর্মসূচি নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, সরকারে গিয়ে তারা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছেন।





























