ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, ঘাতক বাবা গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বিএনপি ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন পেল সরকার ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে কোকোর মৃত্যু: রিজভী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ ইনফিনিক্সের নতুন স্মার্টফোন হট ৭০ প্রো ৫জি বাজারে হাতিয়ায় উত্তাল সাগরে ৩ ট্রলারডুবি, জীবিত উদ্ধার ৪৮ জেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শাস্তির পাশাপাশি কাউন্সেলিং জরুরি: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৫ নেতাকে সাংগঠনিক কারণে বহিষ্কার হামলার আশঙ্কায় পুলিশের নিরাপত্তা চাইল ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার পরামর্শ ভারতীয় সংসদীয় কমিটির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে কমিটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, জনগণকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের অবস্থান ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বছর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে পেশ করা সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা হয়। কমিটি মনে করে, দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিনিময় সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর আয়োজন এবং এই বিনিময়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন ও গতিশীল করতে মোদি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের সুপারিশও করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতবিরোধী বয়ান ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়েও জানতে চেয়েছিল। জবাবে সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ে। ভারত সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি বিদেশি শক্তিগুলোর কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের চীন সফরকে বেইজিংয়ের সাথে বাংলাদেশের বিস্তৃত যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে কমিটি। এ বিষয়ে ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে কমিটি বলেছে, কাঁটাতারের বেড়া সম্ভব না হলে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভাসমান বেড়া, লেজার ও স্মার্ট সেন্সর ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাকে সম্পর্কের উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করে কমিটি। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দিনে দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ভিসার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার পরামর্শ ভারতীয় সংসদীয় কমিটির

আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থানকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে কমিটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, জনগণকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের অবস্থান ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বছর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে পেশ করা সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা হয়। কমিটি মনে করে, দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিনিময় সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর আয়োজন এবং এই বিনিময়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কমিটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন ও গতিশীল করতে মোদি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের সুপারিশও করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতবিরোধী বয়ান ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়েও জানতে চেয়েছিল। জবাবে সরকার জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ে। ভারত সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি বিদেশি শক্তিগুলোর কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের চীন সফরকে বেইজিংয়ের সাথে বাংলাদেশের বিস্তৃত যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে কমিটি। এ বিষয়ে ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে কমিটি বলেছে, কাঁটাতারের বেড়া সম্ভব না হলে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। এক্ষেত্রে ভাসমান বেড়া, লেজার ও স্মার্ট সেন্সর ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাকে সম্পর্কের উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করে কমিটি। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দিনে দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ভিসার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo