ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল ও শিবিরের হাতাহাতি, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

- আপডেট সময় : ০৯:১৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার, যখন শহীদুল্লাহ হলের এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই অতিথির আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ওই দুই ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। এই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি তদন্তে নামে হল প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে হল প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এজিএস ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর রুমমেটকে তদন্ত কমিটির সামনে ডাকা হয়। এ সময় হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে হলের বাইরে ছাত্রদলপন্থী কিছু শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত শিবিরপন্থী শিক্ষার্থীদের সাথে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এই ঘটনার জন্য ছাত্রদল ও শিবির একে অপরকে দায়ী করেছে।
শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক শান্ত অভিযোগ করেন, এজিএস ইব্রাহীম খলিলকে রক্ষা করতে শিবির বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগের দিনের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, যাতে ঘটনার সময় এজিএস হলে ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া না যায়। শান্তর দাবি, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং তখন শিবিরের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
অন্যদিকে, হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির ডাকে তাঁরা এজিএস ও তাঁর রুমমেটকে নিয়ে তদন্তে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্য সেখানে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৌকির হাসানের দাবি, ছাত্রদলের সদস্যরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর শিবিরের এক সদস্য ছবি তুলেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁরা প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে ভিডিও ধারণের চেষ্টা ঘিরেও হামলা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাউস টিউটরদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অভিযোগের বিষয়ে শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহীম খলিল জানান, তাঁর মায়ের মামাতো ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে বিশ্রামের জন্য তাঁর কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে আরেকজন ছিলেন। ইব্রাহীম খলিলের দাবি, ঘটনার সময় তিনি হলে ছিলেন না, ক্লাস শেষে বন্ধুদের সাথে মাওয়া গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর এখন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পর শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা পদত্যাগ করেছেন বলে ছাত্রদল ও শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা নিশ্চিত করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ করেননি। তবে এ ব্যাপারে প্রাধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে ঢাবি শিবিরের সভাপতি মু. মহিউদ্দিন খান হল সংসদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ঘটনার বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের হাউস টিউটর ড. মো. আনোয়ার হোসাইন ভূইয়া বলেন, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটির বিষয়ে আলোচনা চলাকালে বাইরে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, হল প্রশাসনের তদন্ত মিটিংয়ে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। ঘটনার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে এবং হাতাহাতির ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২০: ২৭আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৪৫




























