রাবির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় ডেমো ক্লাস ও যোগ্যতার শর্তে পরিবর্তন
- আপডেট সময় : ০২:১৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

যোগ্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় প্রথমবারের মতো ডেমনস্ট্রেশন বা ডেমো ক্লাস যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তেও আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি সিন্ডিকেট সূত্র এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে আবেদনকারী প্রার্থীদের সশরীরে ডেমো ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদানের দক্ষতা ও উপস্থাপনা যাচাই করা হবে। শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে আগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকার শর্ত ছিল। এই বিদ্যমান শর্তে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় অনুষদ বা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন, তাহলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় মেধাক্রম প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও তিনি শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে, স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও যদি কোনো প্রার্থী স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম হন, তাহলে তিনিও আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে, এই উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। এই বিশেষ ছাড় কেবল অনার্স বা মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে নিয়োগের বেলায় পূর্বের মেধাক্রমের শর্ত প্রযোজ্য হবে না। আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের জন্য এসএসসি ও এইচএসসির সমষ্টিগত জিপিএ ন্যূনতম ৯.০০ এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৮.৫০ হতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো একটি পাবলিক পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ থাকা বাধ্যতামূলক। থিসিস গ্রুপের প্রার্থীরা নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবেন।
উক্ত সিন্ডিকেট সদস্য আরও জানান, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে এবং কোনো প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সিজিপিএ ৩.৫০ না থাকলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্ল্যানিং কমিটি সুপারিশ করতে পারবে। পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, যেখানে অনার্স ও মাস্টার্সে ন্যূনতম ৩.৫০ সিজিপিএসহ মেধাক্রম প্রথম থেকে সপ্তম হওয়ার শর্ত ছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের আমলে ওই শর্ত শিথিল করে কিছু অনুষদে সিজিপিএ ৩.০০-এ নামিয়ে আনা হয়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিদ্যমান নীতিমালায় আধুনিকায়ন এনে ডেমো ক্লাস, থিসিস গ্রুপ ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলো।
নতুন নিয়োগ নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন নীতিমালায় প্রার্থীর একাডেমিক রেজাল্ট, প্রকাশনা, উচ্চতর ডিগ্রির পাশাপাশি ডেমো ক্লাসকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন কোনো ধরনের আপস বা অনৈতিক প্ররোচনায় প্রলোভিত হবে না। কোনো লবিং বা সুপারিশ কাজ করবে না; কেবল প্রার্থীর মেধা, একাডেমিক পারফরম্যান্স ও যোগ্যতা নির্ধারণ করবে তিনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কি না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর নিয়োগেও ডেমো ক্লাস পরিচালনা করা হয়েছে এবং সেখানে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম হওয়া যোগ্য প্রার্থীকেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৪০আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৫৩





























