তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে দুই মাসে মৃত প্রায় ২৯০০
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে চলতি বছরের মে ও জুন মাসে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, আগস্ট মাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তা ২০২২ সালের মৃত্যুর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২২ সালে গরমে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৮৫ জন।
ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত চলা তাপপ্রবাহে প্রায় ৭৫৩ জন এবং ২১ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে আরও ২ হাজার ১২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সব মিলিয়ে গত দুই মাসে তাপজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৭৭ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইংল্যান্ডে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বাড়ছে। এ বছরের গ্রীষ্মের শুরু থেকেই দেশটিতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অতীতে এতটা প্রকট ছিল না। তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) সচিব ইভেট কুপার জানিয়েছেন, শীতকালের মতো এখন গ্রীষ্মকালও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তীব্র দাবদাহ মোকাবিলায় দমকল বাহিনীকেও দাবানল ও জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। মূলত বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ রোগী এবং শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকলে হৃদ্রোগ ও ফুসফুসের জটিলতা বেড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
ইংল্যান্ডের অবকাঠামোগত বাস্তবতাও এই প্রাণহানির পেছনে বড় কারণ। বছরের অধিকাংশ সময় শীতপ্রধান আবহাওয়ার কারণে বেশির ভাগ বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বা কুলারের ব্যবস্থা নেই। শীত প্রতিরোধে নির্মিত ঘরবাড়িতে বায়ু চলাচলের সুযোগ সীমিত হওয়ায় ঘরের ভেতর অসহনীয় গরম তৈরি হয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় ঠান্ডা আবহাওয়ায় অভ্যস্ত মানুষের শরীরও এই তীব্র গরম সহ্য করার উপযোগী নয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ২৬ মে ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৬ জুন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুস সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নশীল মহাদেশ, যেখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
১৭৬৭ সাল থেকে সংরক্ষিত ব্রিটেনের জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই দশকে দেশটির আবহাওয়ার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাপপ্রবাহ বেড়েছে, বদলে গেছে বৃষ্টিপাতের সময় ও ধরণ। উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বন্যার ঝুঁকিও বেড়েছে।





























