বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা প্রশান্ত কিশোরের

- আপডেট সময় : ০৯:৫০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের বিহারের রাজনীতিতে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়েছেন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি তার নতুন দল ‘জনসুরাজ পার্টি’র হয়ে জয়লাভ করেছেন। এই জয় বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ বাঁকিপুর আসনটি এতদিন দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, প্রশান্ত কিশোর ৬৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার পেয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার ভোট। অর্থাৎ, প্রশান্ত কিশোর ১৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী পেয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ভোট।
বাঁকিপুর আসনটি দীর্ঘ সময় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের দখলে ছিল। তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ার পর আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চারবার এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন নিতিনের পিতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্হা। এরপর ২০০৮ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চারবার জয়ী হন নিতিন নবীন। পটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনে বিজেপির এটিই প্রথম পরাজয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের পর এটিই ছিল বিজেপির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। দিল্লির যন্তর মন্তরের পর বিহারে এই আন্দোলনের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি, যা ভোটের ফলে স্পষ্ট। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রভাব এই উপনির্বাচনে পড়েছে।
প্রশান্ত কিশোর তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিহারের তরুণদের ভবিষ্যৎ, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জাত-ধর্মের বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনেছিলেন। বাঁকিপুরের এই জয়কে তিনি বিহারের মানুষের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই ফলাফল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি বার্তা যে, মানুষ এখন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চায়।
উল্লেখ্য, শুধু বিহার নয়, ভারতের আরও দুটি বিধানসভা উপনির্বাচনেও বিজেপির ভোট কমেছে। মধ্যপ্রদেশের দতিয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং জয়ী হয়েছেন এবং গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনে বিজেপি জয়ী হলেও তাদের ভোটের হার কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফল বিজেপির জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং প্রশান্ত কিশোরের জন্য রাজনীতির ময়দানে নতুন করে আত্মপ্রকাশের ইঙ্গিত।


























