ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কয়েকদফা তারিখ ঘোষণার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার সকাল ৯টায় জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং এরপর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাদুঘরের শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। গণভবনের প্রবেশ গেটের পাশে বিশেষ মঞ্চ এবং আগত অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত এই জাদুঘরটিতে গত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের নির্যাতন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের নানা দলিল ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রবেশপথেই একটি সাদা পাথরের ম্যাপ স্থাপন করা হয়েছে, যা দেখে দর্শনার্থীরা পার্কিং, জুলাই মঞ্চ, মেমোরিয়াল, প্রতীকী আয়নাঘর ও থিয়েটারসহ পুরো জাদুঘরের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন। জাদুঘরের সবুজ ঘাসে ঘেরা উন্মুক্ত স্থানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সারি সারি প্রতীকী কবর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সাদা পাথরের নামফলকে শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে।

জাদুঘরের ভেতরে ও মাঠজুড়ে আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও গ্যালারি এবং সাইনবোর্ড আকারে তথ্যচিত্র রাখা হয়েছে। ১৯৮২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে যোগদান থেকে শুরু করে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ১/১১-এর ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও গ্যালারিতে ৩৬ জুলাই আন্দোলনের তৎকালীন চিত্রও দেখা যাবে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শয়নকক্ষ, ব্যবহৃত খাট, বালিশ ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিশেষ কর্নারে রাখা হয়েছে টর্চার সেলের ইলেকট্রিক শক দেওয়ার চেয়ার এবং আওয়ামী লীগ আমলের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র।

সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় দলিল, যা ফ্যাসিবাদী শাসকের পতনের বার্তা বহন করবে। এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং লাখো মানুষের ত্যাগের জীবন্ত স্মারক। জাদুঘরটির মহাপরিচালক হিসেবে বর্তমানে যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

জাদুঘরটি সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ২০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

উদ্বোধনের অপেক্ষায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

কয়েকদফা তারিখ ঘোষণার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বুধবার সকাল ৯টায় জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং এরপর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি জাদুঘরের শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। গণভবনের প্রবেশ গেটের পাশে বিশেষ মঞ্চ এবং আগত অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত এই জাদুঘরটিতে গত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের নির্যাতন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের নানা দলিল ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রবেশপথেই একটি সাদা পাথরের ম্যাপ স্থাপন করা হয়েছে, যা দেখে দর্শনার্থীরা পার্কিং, জুলাই মঞ্চ, মেমোরিয়াল, প্রতীকী আয়নাঘর ও থিয়েটারসহ পুরো জাদুঘরের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবেন। জাদুঘরের সবুজ ঘাসে ঘেরা উন্মুক্ত স্থানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সারি সারি প্রতীকী কবর তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সাদা পাথরের নামফলকে শহীদদের নাম খোদাই করা রয়েছে।

জাদুঘরের ভেতরে ও মাঠজুড়ে আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও গ্যালারি এবং সাইনবোর্ড আকারে তথ্যচিত্র রাখা হয়েছে। ১৯৮২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে যোগদান থেকে শুরু করে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ১/১১-এর ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও গ্যালারিতে ৩৬ জুলাই আন্দোলনের তৎকালীন চিত্রও দেখা যাবে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শয়নকক্ষ, ব্যবহৃত খাট, বালিশ ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিশেষ কর্নারে রাখা হয়েছে টর্চার সেলের ইলেকট্রিক শক দেওয়ার চেয়ার এবং আওয়ামী লীগ আমলের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র।

সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় দলিল, যা ফ্যাসিবাদী শাসকের পতনের বার্তা বহন করবে। এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং লাখো মানুষের ত্যাগের জীবন্ত স্মারক। জাদুঘরটির মহাপরিচালক হিসেবে বর্তমানে যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

জাদুঘরটি সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ ফি ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ২০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin