ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সে ফোক ড্যান্স ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ‘মহুয়া পালা’ ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বিমসটেক সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাল ভারত সিএনজি পাম্পে গ্যাস সংকট নিরসনসহ ৫ দফা দাবি জানাল ঐক্য পরিষদ স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর স্মৃতিফলকে অমর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদেরা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস: বিটিভিতে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা

শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঠিক দুই বছর আগে ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন সইতে হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে ‘আয়নাঘর’-এর মতো শত শত গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে অগণিত মানুষকে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছিল। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি। এছাড়া বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস ও লুটপাট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছে। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। ৫ আগস্টের পর গণভবন, জাতীয় সংসদ, আদালত ও মন্ত্রিসভা ছেড়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা পালিয়েছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের ঋণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন শত্রুতায় পর্যবসিত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না এবং দেশ কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঠিক দুই বছর আগে ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ রাহুমুক্ত হয়। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন সইতে হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে ‘আয়নাঘর’-এর মতো শত শত গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে অগণিত মানুষকে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছিল। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি। এছাড়া বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস ও লুটপাট ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছে। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। ৫ আগস্টের পর গণভবন, জাতীয় সংসদ, আদালত ও মন্ত্রিসভা ছেড়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা পালিয়েছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের ঋণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন শত্রুতায় পর্যবসিত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না এবং দেশ কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh