ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সে ফোক ড্যান্স ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ‘মহুয়া পালা’ ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বিমসটেক সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাল ভারত সিএনজি পাম্পে গ্যাস সংকট নিরসনসহ ৫ দফা দাবি জানাল ঐক্য পরিষদ স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি স্মার্টফোনের ব্যাটারি সমস্যার সমাধানে নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তি বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর স্মৃতিফলকে অমর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদেরা ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস: বিটিভিতে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ করে ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ তথ্যের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থল থেকে স্থলে নিক্ষেপযোগ্য ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (এটিএসিএমএস বা অ্যাটাকামস) এবং নতুন ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র’ (পিআরএসএম) ব্যবহারের কারণে এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের প্রায় পুরো অংশই ব্যবহার করে ফেলেছে।

দূরপাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুপক্ষে নিখুঁত হামলা চালানোর সুবিধা দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধে সরবরাহ করা অ্যাটাকামস ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে, পিআরএসএম হলো নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, যা পুরোনো অ্যাটাকামসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি অত্যাধুনিক অস্ত্রের দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং চীনের মতো বড় কোনো দেশের বিরুদ্ধে সংঘাতের ক্ষেত্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঠিক কী পরিমাণ অস্ত্র অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করেন। সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, মজুত কমে আসায় রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাথে জড়িত চতুর্থ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের কাছে থাকা স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই শেষ হয়ে গেছে, যদিও বিশ্বের অন্য প্রান্তের ঘাঁটি থেকে তা পূরণের প্রক্রিয়া চলছে।

হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং আমাদের যা প্রয়োজন, তার চেয়েও তা অনেক বেশি। বিশ্লেষকরাও স্বীকার করছেন যে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। লকহিড মার্টিন ও রায়থনের মতো বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের হাতে পর্যাপ্ত ও গভীর সক্ষমতার অস্ত্রাগার রয়েছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এসব সরবরাহের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। মূলত অন্য সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বজায় রেখে আর কত দিন ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ঝুঁকি এড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে চালকসহ যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে এ ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মার্চ মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

সামরিক প্রধানেরা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আসছিলেন। সিএসআইএসের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়েছে এবং থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থার মজুত যুদ্ধ শুরুর চেয়ে ৩৮ শতাংশ কমেছে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানের ওপর পরবর্তী হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে, কোনো অস্ত্র সংকটের কারণে নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ

আপডেট সময় : ১২:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ করে ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ তথ্যের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থল থেকে স্থলে নিক্ষেপযোগ্য ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (এটিএসিএমএস বা অ্যাটাকামস) এবং নতুন ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র’ (পিআরএসএম) ব্যবহারের কারণে এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের প্রায় পুরো অংশই ব্যবহার করে ফেলেছে।

দূরপাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুপক্ষে নিখুঁত হামলা চালানোর সুবিধা দেয়। ইউক্রেন যুদ্ধে সরবরাহ করা অ্যাটাকামস ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে, পিআরএসএম হলো নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র, যা পুরোনো অ্যাটাকামসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি অত্যাধুনিক অস্ত্রের দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং চীনের মতো বড় কোনো দেশের বিরুদ্ধে সংঘাতের ক্ষেত্রে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঠিক কী পরিমাণ অস্ত্র অবশিষ্ট আছে, সে বিষয়ে সূত্রগুলো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করেন। সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, মজুত কমে আসায় রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাথে জড়িত চতুর্থ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে তাদের কাছে থাকা স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই শেষ হয়ে গেছে, যদিও বিশ্বের অন্য প্রান্তের ঘাঁটি থেকে তা পূরণের প্রক্রিয়া চলছে।

হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং আমাদের যা প্রয়োজন, তার চেয়েও তা অনেক বেশি। বিশ্লেষকরাও স্বীকার করছেন যে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। লকহিড মার্টিন ও রায়থনের মতো বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের হাতে পর্যাপ্ত ও গভীর সক্ষমতার অস্ত্রাগার রয়েছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এসব সরবরাহের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। মূলত অন্য সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বজায় রেখে আর কত দিন ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ঝুঁকি এড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে চালকসহ যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে এ ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মার্চ মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

সামরিক প্রধানেরা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে আসছিলেন। সিএসআইএসের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়েছে এবং থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থার মজুত যুদ্ধ শুরুর চেয়ে ৩৮ শতাংশ কমেছে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানের ওপর পরবর্তী হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের কারণে নেওয়া হয়েছে, কোনো অস্ত্র সংকটের কারণে নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo