ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক টাঙ্গুয়ার হাওরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ছয় হাউজবোটকে জরিমানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী পেলেন স্পোর্টস স্কলারশিপ সোবহানবাগে যাত্রা শুরু করল ড্যাফোডিল সিএই সেন্টার আল-জাজিরাকে নিষিদ্ধের অভিযোগ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ: ছাত্রশিবির সরে যাওয়ার পর হলে প্রবেশ ছাত্রদলের তেহরানের কাছে শিল্প পার্কে বিস্ফোরণ, আহত ১৮ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে: ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের, কোনো দল বা ব্যক্তির নয়: প্রধানমন্ত্রী

আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ: ছাত্রশিবির সরে যাওয়ার পর হলে প্রবেশ ছাত্রদলের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাদ্রাসা মাঠের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতা-কর্মী আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন। এর আগেই ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হল ছেড়ে পিছু হটেছিল। হলে প্রবেশের পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি রুম ভাঙচুর করেন। এ সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধর করা হয়, পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই আহত হওয়ার দাবি করেছে। ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার সম্পাদক দাউদ খান জানিয়েছেন, এই হামলায় তাদের ২৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ফুয়াদ নামে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও কামিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ চৌধুরী দাবি করেছেন, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, শিবির ও ছাত্রশক্তির মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জরুরি বিভাগের ভেতর থেকে একজনকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং চিকিৎসাধীনরা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন, আর ছাত্রশিবিরের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদদীন জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন প্রস্তুতি নিলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, সেমিনার থেকে বের হয়ে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কেউ তার কথা শোনেননি। এই ঘটনার তদন্তে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ: ছাত্রশিবির সরে যাওয়ার পর হলে প্রবেশ ছাত্রদলের

আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
print news

রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাদ্রাসা মাঠের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েক শ নেতা-কর্মী আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করেন। এর আগেই ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হল ছেড়ে পিছু হটেছিল। হলে প্রবেশের পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি রুম ভাঙচুর করেন। এ সময় সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধর করা হয়, পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই আহত হওয়ার দাবি করেছে। ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার সম্পাদক দাউদ খান জানিয়েছেন, এই হামলায় তাদের ২৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ফুয়াদ নামে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও কামিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ চৌধুরী দাবি করেছেন, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, শিবির ও ছাত্রশক্তির মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন নেতা-কর্মীদের ওপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জরুরি বিভাগের ভেতর থেকে একজনকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং চিকিৎসাধীনরা অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। তবে কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন, আর ছাত্রশিবিরের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদদীন জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন প্রস্তুতি নিলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, সেমিনার থেকে বের হয়ে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কেউ তার কথা শোনেননি। এই ঘটনার তদন্তে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo