ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩৫ রুপি বেতনে পোস্টার আঁকা নানা পাটেকার আর নেই লাকসামে রেলগেটের পাশে হোটেলে ঢুকল লরি, ৩ ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক বাগেরহাটের উন্নয়নে ব্যবসায়ী ও সব মহলের সমন্বয়ের তাগিদ গাজীপুরে অর্থাভাবে থমকে গেছে মেধাবী শামীমের চিকিৎসা, বাবার আকুতি শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে দেশের প্রথম ফোল্ডিং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু পুঠিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে মানুষ মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্গাপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য: ঝিনাইদহে তোলপাড়

ওষুধশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এবং ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা এবং অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

নোবেল কমিটির মতে, এই বিজ্ঞানীদের গবেষণা এমন সব রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশার পথ প্রশস্ত করেছে, যা ওষুধ শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই রাসায়নিক অণুর দুটি ভিন্ন দর্পণ-রূপ মানবদেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। রসায়নে নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিংকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব কীভাবে সম্ভব, তা দীর্ঘ শত বছর ধরে একটি রহস্য ছিল। হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই সেই জটিল রাসায়নিক রহস্যের সমাধান করেছেন এবং তাদের উদ্ভাবিত বিক্রিয়াগুলো ছিল অভাবনীয়।

প্রকৃতিতে কিছু রাসায়নিক অণুর দুটি রূপ থাকে, যা দেখতে পরস্পরের আয়না-ছবির মতো। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই দুটি রূপই তৈরি হতে পারে, কিন্তু জীবজগতে সাধারণত একটি রূপই প্রধান। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপটি নির্ভুলভাবে তৈরি করা জরুরি, কারণ অন্য রূপটি শরীরে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব নাও ফেলতে পারে।

ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপ বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। পরবর্তীকালে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এই গবেষণায় আরও অগ্রগতি আনেন। ১৯৯৫ সালে তিনি নতুন বিক্রিয়ার নকশা উপস্থাপন করেন এবং ২০০৩ সালে এমন একটি বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে সম্ভাব্য দুটি রূপের মধ্যে শুধু একটিই তৈরি হয়। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জীবনের নিজস্ব প্রক্রিয়া ছাড়া এর আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনা দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য যে, ১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৭ বার রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং মোট ১৯৮ জন এই সম্মান পেয়েছেন। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে ৫ অক্টোবর থেকে। এর আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল এবং পদার্থবিজ্ঞানে বেলজিয়ামের ফ্রান্সিস হালজেনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী প্রত্যেকে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

ওষুধশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এবং ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা এবং অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

নোবেল কমিটির মতে, এই বিজ্ঞানীদের গবেষণা এমন সব রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশার পথ প্রশস্ত করেছে, যা ওষুধ শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই রাসায়নিক অণুর দুটি ভিন্ন দর্পণ-রূপ মানবদেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। রসায়নে নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিংকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব কীভাবে সম্ভব, তা দীর্ঘ শত বছর ধরে একটি রহস্য ছিল। হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই সেই জটিল রাসায়নিক রহস্যের সমাধান করেছেন এবং তাদের উদ্ভাবিত বিক্রিয়াগুলো ছিল অভাবনীয়।

প্রকৃতিতে কিছু রাসায়নিক অণুর দুটি রূপ থাকে, যা দেখতে পরস্পরের আয়না-ছবির মতো। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই দুটি রূপই তৈরি হতে পারে, কিন্তু জীবজগতে সাধারণত একটি রূপই প্রধান। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপটি নির্ভুলভাবে তৈরি করা জরুরি, কারণ অন্য রূপটি শরীরে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব নাও ফেলতে পারে।

ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের হেনরি কাগান ১৯৮৬ সালে রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-রূপ বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। পরবর্তীকালে জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই এই গবেষণায় আরও অগ্রগতি আনেন। ১৯৯৫ সালে তিনি নতুন বিক্রিয়ার নকশা উপস্থাপন করেন এবং ২০০৩ সালে এমন একটি বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে সম্ভাব্য দুটি রূপের মধ্যে শুধু একটিই তৈরি হয়। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জীবনের নিজস্ব প্রক্রিয়া ছাড়া এর আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনা দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য যে, ১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৭ বার রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং মোট ১৯৮ জন এই সম্মান পেয়েছেন। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে ৫ অক্টোবর থেকে। এর আগে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল এবং পদার্থবিজ্ঞানে বেলজিয়ামের ফ্রান্সিস হালজেনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী প্রত্যেকে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাবেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din