ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হুতিদের দখল থেকে পুরো ইয়েমেন উদ্ধারে বড় সামরিক অভিযান শুরু স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসা কিনতে আগ্রহী দেশের ছয় ব্যাংক ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের নেপথ্যে: অ্যাডপসের অদৃশ্য ইকোসিস্টেম গাজায় নিহত সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা ইসরাইলের, প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে ইসরাইলে বিতর্ক, চাপে নেতানিয়াহু দেশের বাজারে সোনার দাম কমালো বাজুস নীতিমালা লঙ্ঘনে ৩৪ কেন্দ্র সচিবকে কারিগরি বোর্ডের শোকজ চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন শিবগঞ্জে আদম ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বশক্তির দেশগুলো। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর স্থাপনের তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে 'সেলেনা' নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ক্ষেত্রে সৌরশক্তি ব্যবহার করা বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত থাকে। এই দীর্ঘ অন্ধকার এবং চরম শীতল পরিবেশে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ও বিদ্যুৎ বজায় রাখার জন্য পরমাণু শক্তিই একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'লুনার রিঅ্যাক্টর-১' চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকতে সক্ষম। এর বিপরীতে, চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'সেলেনা' চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

তবে চাঁদে পরমাণু চুল্লি স্থাপনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশ বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত কঠিন। এর পাশাপাশি, পারমাণবিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে। ১৯৬৭ সালের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পরমাণু সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি তাদের চুল্লির চারপাশে 'নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশেও নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন

আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বশক্তির দেশগুলো। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর স্থাপনের তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে 'সেলেনা' নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ক্ষেত্রে সৌরশক্তি ব্যবহার করা বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ সেখানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত থাকে। এই দীর্ঘ অন্ধকার এবং চরম শীতল পরিবেশে স্থায়ী ঘাঁটিতে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ও বিদ্যুৎ বজায় রাখার জন্য পরমাণু শক্তিই একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে মনে করা হচ্ছে। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'লুনার রিঅ্যাক্টর-১' চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকতে সক্ষম। এর বিপরীতে, চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'সেলেনা' চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

তবে চাঁদে পরমাণু চুল্লি স্থাপনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশ বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত কঠিন। এর পাশাপাশি, পারমাণবিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে। ১৯৬৭ সালের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পরমাণু সুরক্ষার অজুহাতে কোনো দেশ যদি তাদের চুল্লির চারপাশে 'নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশেও নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin