ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই কর্মচারী আটক সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে আসছে ‘দ্য ব্যাটম্যান পার্ট টু’ কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে স্কুল পোশাকের অনুদান বৃদ্ধি, সুবিধা পাবে আরও বেশি পরিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চার দিন ধরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম

কৃষ্ণগহ্বর কি মহাবিশ্বের স্মৃতি গিলে ফেলে? বিজ্ঞানের এক গভীর ধাঁধা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একটি বই পুড়িয়ে ফেললে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে তার অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে যায় না; ছাই, ধোঁয়া ও কালির অবস্থার মধ্যে অতীতের চিহ্ন থেকে যায়। কিন্তু একটি নক্ষত্র যখন নিজের মহাকর্ষে ধসে কৃষ্ণগহ্বর তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সেই কৃষ্ণগহ্বর বাষ্পীভূত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন তার ভেতরের নক্ষত্রের উপাদান ও কোয়ান্টাম অবস্থার তথ্যের কী হয়? এই প্রশ্নটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গভীর ধাঁধা, যা 'ব্ল্যাক হোল ইনফরমেশন প্যারাডক্স' বা কৃষ্ণগহ্বরের তথ্য-বৈপরীত্য নামে পরিচিত।

এই ধাঁধার মূলে রয়েছে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সংঘাত। সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুযায়ী, ভর ও শক্তি স্পেসটাইমকে বাঁকিয়ে দেয় এবং কৃষ্ণগহ্বরের 'ইভেন্ট হরাইজন' বা সীমানা তৈরি করে, যেখান থেকে আলোও ফিরে আসতে পারে না। জন হুইলারের মতে, কৃষ্ণগহ্বরের 'চুল নেই', অর্থাৎ এর ভর, আধান ও ঘূর্ণন ছাড়া ভেতরের জটিল তথ্যের কোনো চিহ্ন বাইরে দৃশ্যমান থাকে না।

১৯৭০-এর দশকে স্টিফেন হকিং দেখান যে, কোয়ান্টাম প্রভাবের কারণে কৃষ্ণগহ্বর থেকে 'হকিং রেডিয়েশন' নির্গত হয়। এর ফলে কৃষ্ণগহ্বর ধীরে ধীরে শক্তি ও ভর হারিয়ে একসময় বাষ্পীভূত হতে পারে। হকিংয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বিকিরণ তাপীয় প্রকৃতির, যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের 'ইউনিটারিটি' নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইউনিটারিটি বলে যে, কোনো কোয়ান্টাম সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা থেকে অতীতের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কৃষ্ণগহ্বর যদি তথ্য গিলে ফেলে, তবে কোয়ান্টাম তত্ত্বের এই মৌলিক নিয়মটি হুমকির মুখে পড়ে।

বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তির মতামতকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে না, তাই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। স্ট্রিং তত্ত্ব এবং 'অ্যাডএস/সিএফটি করেসপনডেন্স' ধারণাটি কৃষ্ণগহ্বরে তথ্য সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে। এছাড়া 'হলোগ্রাফিক নীতি' অনুযায়ী, মহাবিশ্বের কোনো অঞ্চলের ভৌত তথ্য তার সীমানায় এনকোড হয়ে থাকতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ডন পেজ দেখান যে, বিকিরণের এনট্রপি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে শেষ পর্যন্ত তথ্য ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়, যা 'পেজ কার্ভ' নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক দশকে 'রেপ্লিকা ট্রিক', 'গ্র্যাভিটেশনাল পাথ ইন্টিগ্রাল' এবং 'রেপ্লিকা ওয়ার্মহোল'-এর মতো পদ্ধতিগুলো এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। ২০২১ সালের একটি বিশদ পর্যালোচনা অনুযায়ী, হকিং বিকিরণের এনট্রপি গণনায় সংশোধন এনে ইউনিটারি কৃষ্ণগহ্বর-বাষ্পীভবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেজ কার্ভ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জোসেফ পলচিনস্কির মতে, এটি এখনো কোয়ান্টাম মহাকর্ষের অসম্পূর্ণ বোঝাপড়ার একটি অংশ। কৃষ্ণগহ্বরের সিঙ্গুলারিটিতে আসলে কী ঘটে, তা এখনো গবেষণার বিষয়।

এই রহস্যের সমাধান আমাদের বাস্তবতার মৌলিক উপাদান—পদার্থ, স্থান, সময় নাকি তথ্য—সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। কৃষ্ণগহ্বর হয়তো মহাবিশ্বের স্মৃতি মুছে ফেলার যন্ত্র নয়, বরং বাস্তবতার গভীরতর কাঠামোর সংকেত। মহাবিশ্ব কোনো তথ্য সত্যিই হারাতে দেয় কি না, এটিই এখন বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

কৃষ্ণগহ্বর কি মহাবিশ্বের স্মৃতি গিলে ফেলে? বিজ্ঞানের এক গভীর ধাঁধা

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি বই পুড়িয়ে ফেললে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে তার অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে যায় না; ছাই, ধোঁয়া ও কালির অবস্থার মধ্যে অতীতের চিহ্ন থেকে যায়। কিন্তু একটি নক্ষত্র যখন নিজের মহাকর্ষে ধসে কৃষ্ণগহ্বর তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সেই কৃষ্ণগহ্বর বাষ্পীভূত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন তার ভেতরের নক্ষত্রের উপাদান ও কোয়ান্টাম অবস্থার তথ্যের কী হয়? এই প্রশ্নটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গভীর ধাঁধা, যা 'ব্ল্যাক হোল ইনফরমেশন প্যারাডক্স' বা কৃষ্ণগহ্বরের তথ্য-বৈপরীত্য নামে পরিচিত।

এই ধাঁধার মূলে রয়েছে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সংঘাত। সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুযায়ী, ভর ও শক্তি স্পেসটাইমকে বাঁকিয়ে দেয় এবং কৃষ্ণগহ্বরের 'ইভেন্ট হরাইজন' বা সীমানা তৈরি করে, যেখান থেকে আলোও ফিরে আসতে পারে না। জন হুইলারের মতে, কৃষ্ণগহ্বরের 'চুল নেই', অর্থাৎ এর ভর, আধান ও ঘূর্ণন ছাড়া ভেতরের জটিল তথ্যের কোনো চিহ্ন বাইরে দৃশ্যমান থাকে না।

১৯৭০-এর দশকে স্টিফেন হকিং দেখান যে, কোয়ান্টাম প্রভাবের কারণে কৃষ্ণগহ্বর থেকে 'হকিং রেডিয়েশন' নির্গত হয়। এর ফলে কৃষ্ণগহ্বর ধীরে ধীরে শক্তি ও ভর হারিয়ে একসময় বাষ্পীভূত হতে পারে। হকিংয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বিকিরণ তাপীয় প্রকৃতির, যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের 'ইউনিটারিটি' নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইউনিটারিটি বলে যে, কোনো কোয়ান্টাম সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা থেকে অতীতের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কৃষ্ণগহ্বর যদি তথ্য গিলে ফেলে, তবে কোয়ান্টাম তত্ত্বের এই মৌলিক নিয়মটি হুমকির মুখে পড়ে।

বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তির মতামতকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে না, তাই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। স্ট্রিং তত্ত্ব এবং 'অ্যাডএস/সিএফটি করেসপনডেন্স' ধারণাটি কৃষ্ণগহ্বরে তথ্য সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করেছে। এছাড়া 'হলোগ্রাফিক নীতি' অনুযায়ী, মহাবিশ্বের কোনো অঞ্চলের ভৌত তথ্য তার সীমানায় এনকোড হয়ে থাকতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে ডন পেজ দেখান যে, বিকিরণের এনট্রপি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে শেষ পর্যন্ত তথ্য ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়, যা 'পেজ কার্ভ' নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক দশকে 'রেপ্লিকা ট্রিক', 'গ্র্যাভিটেশনাল পাথ ইন্টিগ্রাল' এবং 'রেপ্লিকা ওয়ার্মহোল'-এর মতো পদ্ধতিগুলো এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। ২০২১ সালের একটি বিশদ পর্যালোচনা অনুযায়ী, হকিং বিকিরণের এনট্রপি গণনায় সংশোধন এনে ইউনিটারি কৃষ্ণগহ্বর-বাষ্পীভবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেজ কার্ভ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জোসেফ পলচিনস্কির মতে, এটি এখনো কোয়ান্টাম মহাকর্ষের অসম্পূর্ণ বোঝাপড়ার একটি অংশ। কৃষ্ণগহ্বরের সিঙ্গুলারিটিতে আসলে কী ঘটে, তা এখনো গবেষণার বিষয়।

এই রহস্যের সমাধান আমাদের বাস্তবতার মৌলিক উপাদান—পদার্থ, স্থান, সময় নাকি তথ্য—সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। কৃষ্ণগহ্বর হয়তো মহাবিশ্বের স্মৃতি মুছে ফেলার যন্ত্র নয়, বরং বাস্তবতার গভীরতর কাঠামোর সংকেত। মহাবিশ্ব কোনো তথ্য সত্যিই হারাতে দেয় কি না, এটিই এখন বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin