সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার আশাব্যাঞ্জক ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে।
তেলের বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাবের পেছনে রয়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের আভাস। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিলেও একই সঙ্গে জানান, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অনেক গতি তৈরি হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজার কিছুটা বেশি আশাবাদী। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি করেছে। ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত থাকলেও বাজার এখন আলোচনার সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ বাড়ার জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর বন্ধ থাকা ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম মঙ্গলবার পুনরায় শুরু করেছে সৌদি আরব। হামলার জন্য ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল দেশটি। লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত এই পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিকল্প পথটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো সম্ভব, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।
একই সঙ্গে তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে ইরাকও। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানান, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে এবং তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে, যদিও রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) এ বিষয়ে দেশটির সাপ্তাহিক তেল মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।



























