ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ সরকারের অনুমোদন: দেড় লাখ টন সার ও মসুর ডাল কেনা হবে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সরকার ‘গণ খাতে ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত ২০ বছরে অনুকূল পরিবেশের অভাবে সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার ‘গণ খাতে ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে, যার মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটার দরপত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিদের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যারা গত ২০ বছরে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও অনুকূল পরিবেশের অভাবে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের এক দিন পর সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও নারী দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার লক্ষ্যে কোনো দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে চাইলে তাদের স্থানীয় অংশীদারদের যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার এই শর্ত শিথিল করতে পারবে। যৌথ উদ্যোগে দেশীয় অংশীদারের ন্যূনতম অংশীদারত্ব কত হবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া, কাজের প্রয়োজন না থাকলে দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট টার্নওভার বা আগের সরকারি কাজের অভিজ্ঞতার মতো শর্ত বাধ্যতামূলক না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত রাখা যাবে।

জরুরি পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকার ‘বিকল্প সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা’র সুযোগ রেখেছে, যেখানে প্রচলিত ধাপগুলো অনুসরণ না করেই সরাসরি কেনাকাটা করা যাবে। এতে সংকটের সময় দীর্ঘ দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে পণ্য বা সেবা পেতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে। দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্রে প্রাক-যোগ্যতা, সমান প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব আলাদাভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত মানদণ্ডে নম্বর দিয়ে কাজের মান, কারিগরি সক্ষমতা ও টেকসই হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সফল দরদাতার মালিকানা ও চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সীমিত দরপত্র বা এলটিএম ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত পণ্য, সীমিত সরবরাহকারী, জরুরি প্রয়োজন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এলটিএমের ক্ষেত্রে আগে ৩ কোটি টাকার যে সীমা ছিল তা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এখন সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে দর কমানোর জন্য কোনো চাপ দেওয়া যাবে না। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ কারণ দর্শানোর নোটিশের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি সরকারি কেনাকাটা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার মোট প্রকল্প মূল্যের ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রয় আইন বিশেষজ্ঞরা এই সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০ বছর ধরে একশ্রেণির ঠিকাদার যে সুযোগবঞ্চিত ছিল, তা বিবেচনায় তাঁদের ব্যবসায় ফিরে আসার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার যদি যথাযথ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, তাহলে এটি কেবল ঠিকাদারদের হাতবদল ছাড়া দেশের কোনো লাভ হবে না। তবে তিনি নারী দরপত্রদাতাদের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ

আপডেট সময় : ১২:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার ‘গণ খাতে ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে, যার মাধ্যমে সরকারি কেনাকাটার দরপত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিদের দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যারা গত ২০ বছরে বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও অনুকূল পরিবেশের অভাবে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের এক দিন পর সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও নারী দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার লক্ষ্যে কোনো দরপত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে চাইলে তাদের স্থানীয় অংশীদারদের যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার এই শর্ত শিথিল করতে পারবে। যৌথ উদ্যোগে দেশীয় অংশীদারের ন্যূনতম অংশীদারত্ব কত হবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া, কাজের প্রয়োজন না থাকলে দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট টার্নওভার বা আগের সরকারি কাজের অভিজ্ঞতার মতো শর্ত বাধ্যতামূলক না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের ধরন, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার শর্ত রাখা যাবে।

জরুরি পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থে সরকার ‘বিকল্প সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা’র সুযোগ রেখেছে, যেখানে প্রচলিত ধাপগুলো অনুসরণ না করেই সরাসরি কেনাকাটা করা যাবে। এতে সংকটের সময় দীর্ঘ দরপত্র প্রক্রিয়ার কারণে পণ্য বা সেবা পেতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে। দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত দরপত্রে প্রাক-যোগ্যতা, সমান প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব আলাদাভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত মানদণ্ডে নম্বর দিয়ে কাজের মান, কারিগরি সক্ষমতা ও টেকসই হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সফল দরদাতার মালিকানা ও চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সীমিত দরপত্র বা এলটিএম ব্যবহারের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত পণ্য, সীমিত সরবরাহকারী, জরুরি প্রয়োজন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এলটিএমের ক্ষেত্রে আগে ৩ কোটি টাকার যে সীমা ছিল তা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এখন সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে দর কমানোর জন্য কোনো চাপ দেওয়া যাবে না। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ কারণ দর্শানোর নোটিশের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি সরকারি কেনাকাটা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ ৫ শতাংশ ঠিকাদার মোট প্রকল্প মূল্যের ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রয় আইন বিশেষজ্ঞরা এই সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০ বছর ধরে একশ্রেণির ঠিকাদার যে সুযোগবঞ্চিত ছিল, তা বিবেচনায় তাঁদের ব্যবসায় ফিরে আসার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার যদি যথাযথ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, তাহলে এটি কেবল ঠিকাদারদের হাতবদল ছাড়া দেশের কোনো লাভ হবে না। তবে তিনি নারী দরপত্রদাতাদের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo