হুতিদের দখল থেকে পুরো ইয়েমেন উদ্ধারে বড় সামরিক অভিযান শুরু
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান সমর্থিত হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। রোববার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি এই অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনী এই অভিযান চালিয়ে যাবে। অভিযানের ঘোষণার পরপরই দেশটির এক সামরিক মুখপাত্র হুতিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আনসার আল্লাহ’ নামে পরিচিত হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ ওই এলাকায় বসবাস করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলা করেও হুতিরা গত কয়েক বছরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি ইরানের সহায়তায় তারা নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারও আধুনিক করেছে।
গত মাসে হুতিরা আকস্মিক এক অভিযান শুরু করে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূল দখল করে নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথটির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বেড়েছে। এই অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের আরেকটি নতুন ফ্রন্টও খুলে গেছে। ওই যুদ্ধে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে ছিল আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহন কার্যত বাধাগ্রস্ত করা।
ইয়েমেন সরকার, যা প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) নামে পরিচিত, তারা যখন এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়, ঠিক সেই সময়েই হুতিরা দাবি করেছে যে তারা সৌদি আরবের রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুতিদের দাবি, এসব হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর বিপরীতে, হুতিরা জানিয়েছে যে ইয়েমেনে গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এমন দাবির জবাবেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে বলে হুতিরা দাবি করে।





























