যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

হেগভিত্তিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর বিতর্কিত উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের বাইরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এদিন পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত সংশোধনীর ওপর দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় অধিবেশন মুলতবি করা হয়। এরপরই ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা পুলিশের মুখোমুখি হন।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ও আতশবাজি ছোড়েন। প্রিস্টিনার একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিচালক নাসের সিলা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনই বেসামরিক নাগরিক।
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স’ নামের বিশেষ আদালতটি ২০১৫ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কসোভো যুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য এই আদালত তৈরি করা হয়। এটি কসোভোর বিচার ব্যবস্থার অংশ হলেও এর কার্যক্রম নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে পরিচালিত হয় এবং এর বিচারক ও কর্মীরা আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান, কসোভোর ভেতরেই সাজা ভোগের সুবিধা এবং কসোভোর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার প্রথম দফায় প্রস্তাবটি পাস হলেও দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই অধিবেশন শেষ হয়ে যায়।
পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শ বিক্ষোভকারীর মধ্যে জাতিগত আলবেনীয় বিদ্রোহী সংগঠন কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) সমর্থক ও সাবেক যোদ্ধারা ছিলেন। এই সংগঠনটি ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধে সার্বিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। পার্লামেন্ট অধিবেশন শেষে বিক্ষোভকারীরা আইনপ্রণেতাদের বের হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মূলত গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচি ও কেএলএর আরও তিন সাবেক কমান্ডারকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজা দেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। আদালত থাচিকে ২৫ বছর এবং অন্য তিনজনকে ১৩ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে দণ্ডিতরা সবাই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কসোভোর পার্লামেন্টও সর্বসম্মতভাবে এই রায়ের নিন্দা জানিয়েছিল।
আদালত সংস্কারের এই বিষয়টি এখন কসোভোর আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবরের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে, অন্যথায় পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কসোভো (পিডিকে) এই সংশোধনী বিলটি এনেছে এবং তারা জানিয়েছে, বিলটি পাস হলেই কেবল তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমর্থন দেবে। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দল ‘সেল্ফ-ডিটারমিনেশন মুভমেন্ট’ চায় আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোক। প্রধানমন্ত্রী কুর্তি বিলটি আলোচনার পক্ষে থাকলেও সোমবার পার্লামেন্টে বলেন, সংশোধনীগুলো তাড়াহুড়ো করে আনা হয়েছে এবং বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আইনি পথ ব্যবহার করা উচিত। উল্লেখ্য, পশ্চিমা মিত্রদের চাপের মুখে কেএলএ সদস্যদের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য এই বিশেষ আদালত গঠিত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক চাপ ও সাক্ষীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আদালতটি কসোভোর বাইরে স্থাপন করা হয়, যা দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে এখনও অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ অনেকেই কেএলএকে সার্বিয়ার দমনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং স্বাধীনতার পথ তৈরি করা বাহিনী হিসেবে দেখেন।
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ২৭আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ২৯




























