রাফির সমাজসেবী হয়ে ওঠার গল্প: এক অনন্য দৃষ্টান্ত
- আপডেট সময় : ০১:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশে বেড়ে ওঠা রাফি শৈশব থেকেই দুরন্তপনা ও মেধার সমন্বয়ে বেড়ে উঠেছে। ফুটবল, গোল্লাছুট আর মাছ ধরার মতো দুরন্তপনায় ভরা শৈশব পার করা রাফি ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বশীল ও মানবিক গুণের অধিকারী ছিল। স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখা মানুষের কল্যাণে কাজ করার দর্শন সে কেবল মনেই রাখেনি, বরং নিজের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
এসএসসি পাসের পর শহরে এসে একটি কলেজে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে থাকা শুরু করলেও রাফির মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বিন্দুমাত্র কমেনি। বর্ষাকালে শহরের রাস্তা যখন জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়ে, রাফি লক্ষ্য করে যে ম্যানহোলগুলো প্লাস্টিক ও পলিথিন জমে বন্ধ হয়ে গেছে। নিজের শহর পরিষ্কার রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব—এই বিশ্বাস থেকে সে সংকোচ না করে নিজেই রাস্তার ময়লা পরিষ্কারে নেমে পড়ে। তার এই আন্তরিক উদ্যোগে হোস্টেলের সামনে পানি দ্রুত নেমে যায়, যা তার বন্ধুদের অনুপ্রাণিত করে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বুঝে রাফি যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ করে ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলে। তার এই ছোট ছোট উদ্যোগ হোস্টেল এলাকা ও কলেজ ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্নতার মডেলে পরিণত করে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সে নিয়মিত রাস্তার পাশে গাছের চারা রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা শুরু করে। শুরুতে মানুষ অবাক হলেও রাফির ধারাবাহিকতা দেখে অনেকে তার সঙ্গী হয় এবং ধীরে ধীরে এই কর্মকাণ্ড কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
রাফির এই সম্মিলিত ও সচেতনতামূলক প্রচেষ্টায় কয়েক বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা ও ময়লায় জর্জরিত শহরটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। তার এই অসাধারণ নেতৃত্বের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে রাফির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন, যা তার মানবিক কাজের এক বড় স্বীকৃতি হয়ে ওঠে।





























