শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা সুপ্ত রয়েছে। এই প্রতিভার সঠিক বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া জরুরি। আজ শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা পরিবারের ভিত্তি, আর তারা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে দেশের ভিত্তিও মজবুত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না, খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ ছবি আঁকা, কেউ আবৃত্তি, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী হতে পারে, আবার কেউ নাচ বা কোরআন তেলাওয়াতে পছন্দ করতে পারে। প্রত্যেকের আগ্রহ অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।
সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে দেশব্যাপী প্রায় ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির পাশাপাশি বর্তমান সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সাল নাগাদ স্কুল পর্যায় থেকেই আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। তবে শুধু পড়াশোনা বা দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পশুপাখির প্রতিও তাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিশুদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং বড়দেরও বিনয়ের সঙ্গে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন। এছাড়া তিনি শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন এবং শিশু জাদুঘর ভবনে সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁকে বরণ করে নেয়।


























