ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, স্যাটেলাইটে মিলল ৮ যুদ্ধবিমান জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২ তজুমদ্দিনে মাদরাসা ভাঙচুর ও প্রধান শিক্ষককে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির এপিপি হিরনের সদস্যপদ ফের স্থগিত পানির তীব্র সংকট: ২০৩০ সালের আগেই ফুরিয়ে যাবে কাবুলের জল! ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ডেঙ্গুতে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৯৬ নতুন রোগী ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ ও সংঘাত, গ্রেপ্তার ৬ হাজার

ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ ও সংঘাত, গ্রেপ্তার ৬ হাজার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির পক্ষে ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এখন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় নেমেছেন।

দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য অনেকেই সাদা বাহুবন্ধনী পরে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ পরিসর বা বাফার জোন তৈরি করা। গত এক সপ্তাহের সংঘর্ষে ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে এক শিক্ষার্থীর হাত বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে আরেক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। লঁস শহরের ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে; কেউ বলছেন শিক্ষার্থীটি স্টান গ্রেনেড তুলে নিয়েছিলেন, আবার কারও মতে সেটি তার কাছেই বিস্ফোরিত হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এই ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন এবং ওই তরুণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে তিনি আন্দোলনের মধ্যে চরম সহিংসতার অভিযোগ তুলে বলেন, শুরু থেকেই তিনি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, কিছু অতি সহিংস গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ে ক্ষমার অযোগ্য আচরণ করছে। এর জবাবে শিক্ষার্থী সংগঠন লে লিসেয়াঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট লুই লেতুবলোঁ বলেছেন, মন্ত্রী বিষয়টি জেনেছেন, এখন তার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে ফরাসি ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অব লেবার (সিএফডিটি) এবং শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউও-সহ একাধিক বড় সংগঠন শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্যারিস, লিয়ন ও মার্সেইসহ প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সরকার কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও ইউনিয়ন সিদিকাল লিসেয়েন (ইউএসএল) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।

কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ ভবন ও শিক্ষক সংকটের মতো নানা সমস্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ ও সংঘাত, গ্রেপ্তার ৬ হাজার

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির পক্ষে ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এখন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় নেমেছেন।

দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য অনেকেই সাদা বাহুবন্ধনী পরে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, যার উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ পরিসর বা বাফার জোন তৈরি করা। গত এক সপ্তাহের সংঘর্ষে ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে এক শিক্ষার্থীর হাত বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টারের আঘাতে আরেক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। লঁস শহরের ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে; কেউ বলছেন শিক্ষার্থীটি স্টান গ্রেনেড তুলে নিয়েছিলেন, আবার কারও মতে সেটি তার কাছেই বিস্ফোরিত হয়েছে।

ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এই ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন এবং ওই তরুণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে তিনি আন্দোলনের মধ্যে চরম সহিংসতার অভিযোগ তুলে বলেন, শুরু থেকেই তিনি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, কিছু অতি সহিংস গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ে ক্ষমার অযোগ্য আচরণ করছে। এর জবাবে শিক্ষার্থী সংগঠন লে লিসেয়াঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট লুই লেতুবলোঁ বলেছেন, মন্ত্রী বিষয়টি জেনেছেন, এখন তার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে ফরাসি ডেমোক্রেটিক কনফেডারেশন অব লেবার (সিএফডিটি) এবং শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউও-সহ একাধিক বড় সংগঠন শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্যারিস, লিয়ন ও মার্সেইসহ প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সরকার কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও ইউনিয়ন সিদিকাল লিসেয়েন (ইউএসএল) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।

কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই আন্দোলনকে ১৯৬৮ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ ভবন ও শিক্ষক সংকটের মতো নানা সমস্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin