এআই দিয়ে সামান্থার পরিচয় অপব্যবহারের ওপর বোম্বে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর মুখ, কণ্ঠ, নাম ও পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত সামান্থাকে নিয়ে তৈরি সব ধরনের অননুমোদিত এআই-নির্মিত ডিপফেক ও বিকৃত কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মাধব জামদার এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন।
সামান্থার ব্যক্তিত্বের অধিকার বা ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ নিয়ে করা মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন। মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে আদালত জানায়, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অনুমতি ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেক ও বিকৃত কনটেন্টের মাধ্যমে অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্ব ও প্রচার-স্বত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালত বিভিন্ন এআই প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সামান্থার নাম, ছবি ও কণ্ঠের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদের অধীনে সামান্থার ব্যক্তিত্ব ও প্রচার-স্বত্ব সুরক্ষিত। এছাড়া সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদার অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কপিরাইট আইনের ৩৮বি ধারার মাধ্যমে অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর নৈতিক অধিকার বা ‘মোরাল রাইটস’ আলাদাভাবে সুরক্ষিত। বিচারপতি জামদার উল্লেখ করেন, এসব অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে শুধু অভিনেত্রীর পরিচয়ের অপব্যবহার নয়, বরং এটি তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও পেশাগত অধিকারের ওপর আঘাত।
অনুমতি ছাড়া তার পরিচয় কাজে লাগিয়ে ডিপফেক ও বিকৃত কনটেন্ট তৈরির বিরুদ্ধে সুরক্ষা চেয়ে সামান্থা আদালতে আবেদন করেছিলেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিসহ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, এআই নির্মাতা, ডিজিটাল মিডিয়া এবং ই-কমার্স সংস্থাকে বিবাদী করা হয়েছে। মোট ১৮টি পক্ষকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামান্থা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, কনটেন্ট অপসারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। আদালতের এই আদেশ ‘জন ডো অর্ডার’ হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের পরিচয় পাওয়া গেলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে ২৮ আগস্ট বোম্বে হাইকোর্ট ‘লেটার্স পেটেন্ট’র ১২ নম্বর ধারার অধীনে মামলাটি করার অনুমতি দিয়েছিল। সামান্থার পক্ষের আইনজীবীরা জানান, তার পেশাগত সুনাম মুম্বাইভিত্তিক হলেও কিছু অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ভারতের বাইরের বিবাদীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। আদালত আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। এই রায় এআই-নির্মিত ডিপফেক ও পরিচয়-অপব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারতের বিচারব্যবস্থায় ব্যক্তিগত অধিকার ও গোপনীয়তার সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




























