ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে কৃষক দলের বার্ষিক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে মাছ ধরার বোটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আলতাফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দেশ স্বাধীন হবেই’ সরবরাহ কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট, বাজারে বাড়তি দাম মানুষ কষ্টে আছে, দেশে নিরাপত্তা নেই: জামায়াত আমীর নেশনস লিগে স্পেনের টানা তৃতীয় জয়, আবারও ঝলক ইয়ামালের চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ ব্যর্থ: চাঁদাবাজি ও ভুল পরিকল্পনায় জিম্মি সড়ক শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: ভারতীয় হাইকমিশনার গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, ছাদে আটকা পড়া ৭০ জন উদ্ধার

শতবর্ষ পরে পর্দায় ফিরছে শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক বিতর্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একশো বছর আগে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পথের দাবী'। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভয় পেয়েছিল, যার ফলস্বরূপ ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ বারো বছর পর, ১৯৩৯ সালে শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর এক বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিপ্লবের পথ বেছে নেওয়া এক লড়াকু মানুষ, যিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

বইটি নিষিদ্ধ হওয়ার সময় শরৎচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। তার মূল প্রশ্ন ছিল—একটি বই যদি মানুষকে পড়তেই না দেওয়া হয়, তবে লেখকের লেখার সার্থকতা কোথায়? জবাবে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন, কলম দিয়ে শাসকের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে লেখককে তার পরিণতি মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আবার সেই শাসকের কাছেই শাস্তির আবেদন করাকে রবীন্দ্রনাথ সহজভাবে নিতে পারেননি। এই দুই মহীরুহের ভিন্ন রাজনৈতিক বোধ ও শিল্পীর দায়বদ্ধতা নিয়ে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পত্রালাপকে উপজীব্য করে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি নির্মাণ করেছেন তার নতুন চলচ্চিত্র 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। দুর্গাপূজার আবহে আগামী ১৫ অক্টোবর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সৃজিতের মতে, আজকের দিনেও একজন শিল্পী যখন ক্ষমতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তখন তিনি নিজের পরিসরের মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন আশা করেন, তা সবসময় পাওয়া যায় না। শতবর্ষ আগের শরৎচন্দ্রের সেই লড়াই আজও সমকালীন হয়ে ধরা দেয়।

সৃজিত মুখার্জি তার এই ছবিতে সব্যসাচী চরিত্রটির দুটি দিক তুলে ধরেছেন। একই বছরে তার পরিচালনায় পর্দায় আসা 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এ সব্যসাচী সেন দীর্ঘ ঘুমের পর পরিবর্তিত পৃথিবীতে ফিরে আসা এক মানুষ, আর 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'-এর সব্যসাচী মল্লিক সরাসরি ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াকু এক বিপ্লবী। পরিচালকের ব্যাখ্যায়, সব্যসাচী সেনের বিশ্বাস যখন ক্ষমতার আঘাতে চরম সীমায় পৌঁছায়, তখনই তা সব্যসাচী মল্লিকের মতো বিস্ফোরক রূপ নেয়।

শরৎচন্দ্রকে সাধারণত সামাজিক উপন্যাসের লেখক হিসেবে মনে রাখা হলেও, 'পথের দাবী' তাকে ক্ষমতার চোখে চোখ রাখা এক বিদ্রোহী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি বা আন্তর্জাতিক খ্যাতি না থাকলেও, শরৎচন্দ্রের কলমে প্রেম, সমাজ ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণার পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ভাষাও স্পষ্ট ছিল। সৃজিতের নতুন এই সিনেমা শিল্পী কি কেবল লিখবেন, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের লেখার দায়ভারও গ্রহণ করবেন—সেই পুরোনো প্রশ্নটিই নতুন করে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শতবর্ষ পরে পর্দায় ফিরছে শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক বিতর্ক

আপডেট সময় : ০২:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

একশো বছর আগে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পথের দাবী'। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভয় পেয়েছিল, যার ফলস্বরূপ ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ বারো বছর পর, ১৯৩৯ সালে শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর এক বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী ব্রিটিশ পুলিশের চোখ এড়িয়ে বিপ্লবের পথ বেছে নেওয়া এক লড়াকু মানুষ, যিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

বইটি নিষিদ্ধ হওয়ার সময় শরৎচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। তার মূল প্রশ্ন ছিল—একটি বই যদি মানুষকে পড়তেই না দেওয়া হয়, তবে লেখকের লেখার সার্থকতা কোথায়? জবাবে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন, কলম দিয়ে শাসকের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে লেখককে তার পরিণতি মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আবার সেই শাসকের কাছেই শাস্তির আবেদন করাকে রবীন্দ্রনাথ সহজভাবে নিতে পারেননি। এই দুই মহীরুহের ভিন্ন রাজনৈতিক বোধ ও শিল্পীর দায়বদ্ধতা নিয়ে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পত্রালাপকে উপজীব্য করে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি নির্মাণ করেছেন তার নতুন চলচ্চিত্র 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। দুর্গাপূজার আবহে আগামী ১৫ অক্টোবর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সৃজিতের মতে, আজকের দিনেও একজন শিল্পী যখন ক্ষমতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তখন তিনি নিজের পরিসরের মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন আশা করেন, তা সবসময় পাওয়া যায় না। শতবর্ষ আগের শরৎচন্দ্রের সেই লড়াই আজও সমকালীন হয়ে ধরা দেয়।

সৃজিত মুখার্জি তার এই ছবিতে সব্যসাচী চরিত্রটির দুটি দিক তুলে ধরেছেন। একই বছরে তার পরিচালনায় পর্দায় আসা 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এ সব্যসাচী সেন দীর্ঘ ঘুমের পর পরিবর্তিত পৃথিবীতে ফিরে আসা এক মানুষ, আর 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'-এর সব্যসাচী মল্লিক সরাসরি ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াকু এক বিপ্লবী। পরিচালকের ব্যাখ্যায়, সব্যসাচী সেনের বিশ্বাস যখন ক্ষমতার আঘাতে চরম সীমায় পৌঁছায়, তখনই তা সব্যসাচী মল্লিকের মতো বিস্ফোরক রূপ নেয়।

শরৎচন্দ্রকে সাধারণত সামাজিক উপন্যাসের লেখক হিসেবে মনে রাখা হলেও, 'পথের দাবী' তাকে ক্ষমতার চোখে চোখ রাখা এক বিদ্রোহী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি বা আন্তর্জাতিক খ্যাতি না থাকলেও, শরৎচন্দ্রের কলমে প্রেম, সমাজ ও ব্যক্তিগত যন্ত্রণার পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ভাষাও স্পষ্ট ছিল। সৃজিতের নতুন এই সিনেমা শিল্পী কি কেবল লিখবেন, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের লেখার দায়ভারও গ্রহণ করবেন—সেই পুরোনো প্রশ্নটিই নতুন করে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin