রুপির পতন সত্ত্বেও ভারতের ধনীদের সম্পদ ১ ট্রিলিয়ন ডলার
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছর ভারতের স্থানীয় মুদ্রা রুপি ও শেয়ারবাজারের বড় ধরনের পতন হলেও দেশটির শীর্ষ শতকোটিপতিদের সম্মিলিত সম্পদে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এ বছর রুপির বিনিময় হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে এবং শেয়ারবাজারের সূচক পড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তা সত্ত্বেও ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের বার্ষিক তালিকায় এবার শীর্ষস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।
ডলারের হিসাবে এ বছর গৌতম আদানির সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তাঁর পারিবারিক সম্পদসহ মোট সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে। তবে ২০২২ সালে তাঁর পরিবারের সম্পদ যখন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার কোটি ডলারে উঠেছিল, সেই তুলনায় বর্তমান সম্পদ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কম। অবকাঠামো খাতের এই ব্যবসায়ী বর্তমানে আদানি গ্রুপকে বড় ধরনের সম্প্রসারণের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, যার অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবকাঠামো তৈরিতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, একসময় ভারত ও এশিয়ার শীর্ষ ধনী থাকা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুকেশ আম্বানি এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন। খুচরা ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে মুনাফার ওপর চাপ থাকায় রিলায়েন্সের শেয়ারের দর কমেছে, যার ফলে এক বছরে তাঁর সম্পদ ১ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে। তবে আম্বানি তাঁর মোবাইল ফোন সেবা প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া এই প্রক্রিয়া সফল হলে এটি হতে পারে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৮০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হতে পারে।
ফোর্বসের তালিকায় ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইস্পাত থেকে বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসা করা ও পি জিন্দাল গ্রুপের সাবিত্রী জিন্দাল, যিনি ভারতের সবচেয়ে ধনী নারী। শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তালের। তাঁর সম্পদ ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে তিনি আট ধাপ এগিয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছেন। ক্রীড়া জগতেও বড় বিনিয়োগ করেছেন মিত্তাল; গত মে মাসে টিকা ব্যবসায়ী সাইরাস পুনাওয়ালার ছেলে আদরের সঙ্গে যৌথভাবে ১৬৫ কোটি ডলার মূল্যায়নে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল রাজস্থান রয়্যালস কিনেছেন তিনি।
তালিকায় থাকা অর্ধেকের বেশি ধনীর সম্পদ এবার কমেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থানের কারণে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা এই খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সম্পদে প্রভাব ফেলেছে। এইচসিএল টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস শিব নাদার, উইপ্রোর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আজিম প্রেমজি এবং ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তির সম্পদ কমে গেছে। এমনকি ইনফোসিসের অপর দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা—চেয়ারম্যান নন্দন নিলেকানি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোপালকৃষ্ণন এবার তালিকা থেকেই বাদ পড়েছেন।
নতুন তালিকায় স্থান পাওয়া ১০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে সুনীল মিত্তাল ও তাঁর পরিবার পঞ্চম, সাইরাস পুনাওয়ালা ষষ্ঠ, শিব নাদার সপ্তম, দিলীপ সাংভি ও তাঁর পরিবার অষ্টম, কুমার বিরলা নবম এবং হিন্দুজা পরিবার দশম স্থানে রয়েছে। এবারের তালিকায় নতুন করে চারজন যুক্ত হয়েছেন। শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করায় কৃষ্ণ চিভুকুলা এবং শেয়ারের দাম বাড়ায় দেশাই ভাইয়েরা ও আদিত্য খেমকা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। নিরাপত্তা ও নজরদারির সরঞ্জাম নির্মাতা আদিত্য ইনফোটেকের শেয়ারের দর বাড়ায় ৩৬০ কোটি ডলারের পারিবারিক সম্পদ নিয়ে ৮৩তম অবস্থানে আছেন আদিত্য খেমকা, যা ২০২৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ ছাড়া স্ন্যাকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বালাজি ওয়েফার্সের উদ্যোক্তা তিন ভাই—ভিখাভাই, চন্দুভাই ও কানজিভাই ভিরানি গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেনারেল আটলান্টিকের কাছে কিছু শেয়ার বিক্রি করে নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
তালিকায় ফিরে আসা সাতজনের মধ্যে অনিল আগরওয়াল অন্যতম। গত জুন মাসে তিনি তাঁর খনি ও ধাতু ব্যবসার প্রধান প্রতিষ্ঠান বেদান্তকে পাঁচটি পৃথক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভাগ করে সম্পদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, এবার ফোর্বসের তালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য ন্যূনতম সম্পদের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ৩২০ কোটি ডলার।




























