এক দিনে ৬১ বিলিয়ন ডলার বাড়ল ইলন মাস্কের সম্পদ
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার মাত্র এক দিনেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ উল্লম্ফনের পর বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে।
এক দিনে ইলন মাস্কের যে পরিমাণ সম্পদ বেড়েছে, তা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের ঘোষিত জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, বাংলাদেশের পুরো অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান সম্পদ মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টায়।
মূলত মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় তাঁর সম্পদমূল্যে এই বড় পরিবর্তন এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করার পর শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে।
টেসলার শেয়ারের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের হিসাব। এই সময়ে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো গাড়ি সরবরাহ কমার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা থেকে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ইতিবাচক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ফোর্বসের তালিকায় এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।
এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটি ডলারের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন ইলন মাস্ক। সে সময় তাঁর সম্পদ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে উঠেছিল। মূলত গত জুন মাসে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মাস্কের সম্পদকে ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে নিয়ে যায়।
তবে এই গৌরব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জুনের শেষের দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ফোর্বস তাদের হিসাব থেকে বাদ দেয়, যার ফলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। এরপর ২৯ জুন সাময়িকভাবে এই মর্যাদা ফিরে পেলেও ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতনে তা আবারও হাতছাড়া হয়। জুলাই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের মোট সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভর করে মাস্কের সম্পদ আবারও দ্রুত বাড়ছে।
একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তাঁর সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।.এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান।





























