তেলের দাম বাড়ায় চালের পাইকারি বাজারে বড় প্রভাব, বস্তাপ্রতি বাড়ল ২০০ টাকা পর্যন্ত
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশের চালের পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম ধাপে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে। ইতোমধ্যে প্রকারভেদে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মোটা চালের দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ (100-150) টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে চিকন চালের দাম বস্তায় বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০০ (200) টাকা পর্যন্ত।
তবে পাইকারি বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে এখনো পুরোপুরি পড়েনি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খুচরা পর্যায়ে পুরনো চালানের চাল শেষ হলে তবেই নতুন দরের প্রভাব দেখা যাবে। বাজারে গ্রাহক ধরে রাখার প্রতিযোগিতার কারণে এবং অনেকের কাছে ২০ দিন থেকে এক মাসের চাল মজুদ থাকায়, তারা মুনাফা কমিয়ে আগের দামেই চাল বিক্রি করছেন। এছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারজাত করা দুই ও পাঁচ কেজির প্যাকেটজাত চালের দামও এখন পর্যন্ত বাড়েনি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পায়। নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ (135) টাকা, কেরোসিন ১৫৫ (155) টাকা, অকটেন ১৬৫ (165) টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ (160) টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ১১ দিন পর গত শুক্রবার রাজধানীর খিলখেত, বাবুবাজার, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন দরের চাল বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
যাত্রাবাড়ীর অন্যতম বড় আড়ত মেসার্স করিম রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী শাহ আলম জানান, ২০ দিন আগে আটাش চালের বস্তা ২ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হতো, যা এখন ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। আটাশ জাতের সর্বনিম্ন আতপ চালের বস্তা হচ্ছে ১ হাজার ৯৭৫ (1975) টাকা। বাজারে আটাশ, নাজিরশাইল ও পাইজামের মতো সিদ্ধ চাল বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিক্রি হয়। এছাড়া মিলগুলো মিনিকেট নামেও চাল সরবরাহ করে, যা মেশিনে কেটে সরু ও চকচকে করা হয়। বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭২ টাকা এবং কাটারিভোগ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ কেজির প্যাকেটজাত চিকন চালের কেজিপ্রতি দর পড়ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০৫ (105) টাকা।
শনির আখড়ার মেসার্স শফিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, খুচরা বাজারে আটাশ চাল সাধারণত ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বেশি নিলে ৫২ টাকা রাখা হয়। আড়তে আটাশ জাতের চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ (150) টাকা এবং চিকন চালের বেলায় বস্তা প্রতি ১৫০ (150) টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন দামে চাল কেনার কারণে তার প্রতি কেজিতে খরচ প্রায় তিন টাকা বাড়লেও গত তিন সপ্তাহে তিনি খুচরা দাম বাড়াননি। দোকানে থাকা পুরনো চালের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের দামেই বিক্রি করতে হবে বলে জানান তিনি, যার ফলে বর্তমানে তার লাভ কমে গেছে।
মহাখালী কাঁচাবাজারের মেসার্স মানিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মানিক মিয়া জানান, গত দুই সপ্তাহে তিনি আড়তে যাননি। তার কাছে যে চাল মজুদ আছে, তা দিয়ে আরও ১০-১৫ দিন চলবে এবং এই সময়ে তিনি দাম বাড়াবেন না। নতুন দামে চাল কিনলে তবেই নতুন দরে বিক্রি করবেন। একই বাজারের শিমু ট্রেডার্সের বিক্রয়কর্মী আজিজুর রহমান জানান, তিনি গত এক মাস ধরে গুটি স্বর্ণা চাল ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। শনির আখড়ার খুচরা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিনি প্রতি কেজি আটাশ ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭০ টাকা, পাইজাম ৬৬ টাকা এবং নাজিরশাইল ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। লাভ কমে গেলেও বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন আগের দামেই বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
যাত্রাবাড়ী চালের আড়তে বর্তমানে মিনিকেট চাল বস্তাপ্রতি ১৫০ (150) টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার (3000) থেকে ৩ হাজার ৩০০ (3300) টাকায় এবং আটাশ ২ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাবুবাজার আড়তের চাঁদপুর ট্রেডার্সের আলিফ হোসেন বলেন, চালের দাম একবারে না বেড়ে ধীরে ধীরে বাড়ে। গাড়ি ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে একেক কাস্টমারের কাছে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ (100) টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট দর স্থির হয়নি।
বাবুবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে একটি কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ (150) টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই আড়তে মাঝারি মানের মিনিকেট প্রতি বস্তা ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্য একটি কোম্পানির আটাশ চালের বস্তা আগের চেয়ে ১৫০ (150) টাকা বেশি দরে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ৫ কেজির চালের প্যাকেট ৪৮০ থেকে ৫২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ঢাকা মহানগরের দৈনিক বাজার দর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে এই চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।





























