ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চিরকুটে বিকাশ নম্বর লিখে মিটার চুরি: আশুলিয়ায় গ্রেপ্তার ২ এশিয়ান গেমসের সমাপ্তি: চীনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য ও নানা বিতর্কের আসর ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে বসছে ইয়ুথ মডেল ইউএন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে অনলাইন কোর্স করার সুযোগ দেড় মাসে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কৌশল জানালেন ডা. আনিকা ব্রাজিল নির্বাচন: প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও দোয়া মাহফিলের মঞ্চে নৃত্যানুষ্ঠান, বাকেরগঞ্জে সমালোচনার ঝড় রোনালদোই পর্তুগাল ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক: ব্রুনো ফার্নান্দেজ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: নাহিদের হুঁশিয়ারি এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ

দেড় মাসে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কৌশল জানালেন ডা. আনিকা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



৪৮তম বিসিএসের সার্কুলার যখন প্রকাশিত হয়, তখন ডা. শাহজিয়া শাহরিন আনিকার ইন্টার্নশিপ সবে শুরু হয়েছে। নতুন ডাক্তার হওয়ার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি দেখেন, বিসিএস প্রস্তুতির জন্য তার হাতে সময় আছে মাত্র দেড় মাস। একদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা ডিউটি, অন্যদিকে বিশাল সিলেবাস—এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দমে না গিয়ে পরিকল্পিত পড়াশোনা শুরু করেন। নিজের সবল ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করাই ছিল তার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার এবং গণিতে নিজের দক্ষতাকে তিনি প্রধান পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেন। ডিউটির ফাঁকে সুযোগ বুঝে ফোনে পিডিএফ ফাইল দেখে তিনি নিয়মিত বিষয়গুলো ঝালাই করে নিতেন। এমবিবিএস পড়ার সময় টিউশন করানোর অভিজ্ঞতাও তাকে এই বিষয়গুলোতে কিছুটা সুবিধা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ছিল তার দুর্বল জায়গা। তাই তিনি অপ্রয়োজনীয় পড়াশোনা না করে পরীক্ষার উপযোগী বাছাই করা টপিকগুলো বারবার পড়ার ওপর জোর দেন। জেনারেল অংশের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় লিখিত পরীক্ষায় তিনি এগিয়ে ছিলেন। গণিত ও মানসিক দক্ষতায় শতভাগ সঠিক উত্তর করা তাকে প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে দিয়েছে। তার পরামর্শ হলো, একই টপিক বারবার বিভিন্ন বই থেকে না পড়ে নির্দিষ্ট উৎস থেকে পড়লে ভিজ্যুয়াল মেমোরি তৈরি হয়, যা পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে। কোচিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, প্রস্তুতি আগে থেকে গোছানো থাকলে কোচিংয়ের প্রয়োজন নেই, তবে প্রথমবার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বা সময় কম থাকলে মেন্টর বা কোচিং সহায়ক হতে পারে।

মেডিক্যাল পার্টের প্রস্তুতির জন্য তিনি এমবিবিএস পর্যায়ের পড়াশোনা ও প্রচুর মডেল টেস্ট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মডেল টেস্টে কম নম্বর পেলেও হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা করতে হবে নিজের সঙ্গে। আগের দিনের চেয়ে পরদিন দুই নম্বর বেশি পাওয়া মানেই ভালো অগ্রগতি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েও লিখিত পরীক্ষায় বিচলিত না হওয়ার পেছনে নিয়মিত মডেল টেস্টের অবদান ছিল বলে তিনি মনে করেন।

পরীক্ষার হলের ১২০ মিনিটের কার্যক্রমই ক্যাডার হওয়ার মূল নির্ধারক। তার মতে, প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রথমে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত উত্তরগুলো দাগিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো অংকের পেছনে সময় নষ্ট না করে কাটমার্ক নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। ১১০টির বেশি সঠিক উত্তরকে তিনি 'সেফ জোন' বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর ভাইভার সঙ্গে যোগ হয়, তাই শুধু পাস করা নয়, ভালো নম্বর পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। ৫০-৫০ সম্ভাবনার প্রশ্নের ক্ষেত্রে রিস্ক-বেনিফিট রেশিও বিবেচনা করতে হবে এবং একদম অজানা প্রশ্ন এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার জন্য তিনি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মরত সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা জেনে নিয়েছিলেন। ভাইভায় মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা মোকাবিলা, ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা এবং ফরেনসিক মেডিসিনসহ সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অনুমাননির্ভর উত্তরের চেয়ে বিনয়ের সঙ্গে 'স্যরি' বলা বুদ্ধিমানের কাজ। ডা. আনিকা মনে করেন, ভাইভায় জ্ঞানের চেয়েও ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপন ও আদবকায়দা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪৮তম বিসিএসের সার্কুলার আসে আমার ইন্টার্নশিপ শুরু হওয়ার পরপরই। তখনো মন থেকে নতুন ডাক্তার হওয়ার আনন্দের রেশ কাটেনি। ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে আগে তেমন ভাবিনি বিধায় বিসিএসের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি। তত দিনে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি দেশে ক্যারিয়ার করতে চাইলে ডাক্তারদের জন্য বিসিএস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাতে সময় মাত্র দেড় মাস। একদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন ৬-১২ ঘণ্টা ডিউটি, অন্যদিকে পাহাড়সমান সিলেবাস।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দেড় মাসে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কৌশল জানালেন ডা. আনিকা

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

৪৮তম বিসিএসের সার্কুলার যখন প্রকাশিত হয়, তখন ডা. শাহজিয়া শাহরিন আনিকার ইন্টার্নশিপ সবে শুরু হয়েছে। নতুন ডাক্তার হওয়ার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি দেখেন, বিসিএস প্রস্তুতির জন্য তার হাতে সময় আছে মাত্র দেড় মাস। একদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা ডিউটি, অন্যদিকে বিশাল সিলেবাস—এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দমে না গিয়ে পরিকল্পিত পড়াশোনা শুরু করেন। নিজের সবল ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করাই ছিল তার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার এবং গণিতে নিজের দক্ষতাকে তিনি প্রধান পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেন। ডিউটির ফাঁকে সুযোগ বুঝে ফোনে পিডিএফ ফাইল দেখে তিনি নিয়মিত বিষয়গুলো ঝালাই করে নিতেন। এমবিবিএস পড়ার সময় টিউশন করানোর অভিজ্ঞতাও তাকে এই বিষয়গুলোতে কিছুটা সুবিধা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ছিল তার দুর্বল জায়গা। তাই তিনি অপ্রয়োজনীয় পড়াশোনা না করে পরীক্ষার উপযোগী বাছাই করা টপিকগুলো বারবার পড়ার ওপর জোর দেন। জেনারেল অংশের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় লিখিত পরীক্ষায় তিনি এগিয়ে ছিলেন। গণিত ও মানসিক দক্ষতায় শতভাগ সঠিক উত্তর করা তাকে প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে দিয়েছে। তার পরামর্শ হলো, একই টপিক বারবার বিভিন্ন বই থেকে না পড়ে নির্দিষ্ট উৎস থেকে পড়লে ভিজ্যুয়াল মেমোরি তৈরি হয়, যা পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে। কোচিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, প্রস্তুতি আগে থেকে গোছানো থাকলে কোচিংয়ের প্রয়োজন নেই, তবে প্রথমবার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বা সময় কম থাকলে মেন্টর বা কোচিং সহায়ক হতে পারে।

মেডিক্যাল পার্টের প্রস্তুতির জন্য তিনি এমবিবিএস পর্যায়ের পড়াশোনা ও প্রচুর মডেল টেস্ট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মডেল টেস্টে কম নম্বর পেলেও হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা করতে হবে নিজের সঙ্গে। আগের দিনের চেয়ে পরদিন দুই নম্বর বেশি পাওয়া মানেই ভালো অগ্রগতি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েও লিখিত পরীক্ষায় বিচলিত না হওয়ার পেছনে নিয়মিত মডেল টেস্টের অবদান ছিল বলে তিনি মনে করেন।

পরীক্ষার হলের ১২০ মিনিটের কার্যক্রমই ক্যাডার হওয়ার মূল নির্ধারক। তার মতে, প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রথমে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত উত্তরগুলো দাগিয়ে নেওয়া উচিত। কোনো অংকের পেছনে সময় নষ্ট না করে কাটমার্ক নিশ্চিত করাই লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। ১১০টির বেশি সঠিক উত্তরকে তিনি 'সেফ জোন' বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর ভাইভার সঙ্গে যোগ হয়, তাই শুধু পাস করা নয়, ভালো নম্বর পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। ৫০-৫০ সম্ভাবনার প্রশ্নের ক্ষেত্রে রিস্ক-বেনিফিট রেশিও বিবেচনা করতে হবে এবং একদম অজানা প্রশ্ন এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার জন্য তিনি ক্যাডার সার্ভিসে কর্মরত সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা জেনে নিয়েছিলেন। ভাইভায় মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা মোকাবিলা, ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা এবং ফরেনসিক মেডিসিনসহ সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অনুমাননির্ভর উত্তরের চেয়ে বিনয়ের সঙ্গে 'স্যরি' বলা বুদ্ধিমানের কাজ। ডা. আনিকা মনে করেন, ভাইভায় জ্ঞানের চেয়েও ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপন ও আদবকায়দা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪৮তম বিসিএসের সার্কুলার আসে আমার ইন্টার্নশিপ শুরু হওয়ার পরপরই। তখনো মন থেকে নতুন ডাক্তার হওয়ার আনন্দের রেশ কাটেনি। ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে আগে তেমন ভাবিনি বিধায় বিসিএসের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি। তত দিনে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি দেশে ক্যারিয়ার করতে চাইলে ডাক্তারদের জন্য বিসিএস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাতে সময় মাত্র দেড় মাস। একদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন ৬-১২ ঘণ্টা ডিউটি, অন্যদিকে পাহাড়সমান সিলেবাস।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo