নিত্যপণ্য ও এলপিজি বাজারে অভিযান: ১০২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
- আপডেট সময় : ১০:১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ডিম, ভোজ্যতেল ও ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ৩০টি জেলায় পরিচালিত এ তদারকিমূলক অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে। তদারকিকালে কর্মকর্তারা পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে কি না—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধ, পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করাই এই দেশব্যাপী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অভিযান চলাকালে সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টে গুরুতর জালিয়াতি ধরা পড়ে। অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই দুই ডিলারের বিরুদ্ধে ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের সাহায্যে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপি করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এ সময় কারচুপির কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ এবং বিভিন্ন গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
তদারকিকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ ও পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ করা মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়। ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি না করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক কিংবা অননুমোদিত কোনো উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
ভোক্তাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেকোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই মূল্যতালিকা ও সঠিক ওজন যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি), উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়া প্রয়োজন। গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় সেটির ওজন, সিল ও বাহ্যিক কোনো ত্রুটি আছে কি না তা পরীক্ষা করে ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোনো ক্রেতা প্রতারিত বা অনিয়মের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।





























