হুথিদের হটাতে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
- আপডেট সময় : ০৩:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হটিয়ে হারিয়ে যাওয়া ভূখণ্ড পুনর্দখল করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সৌদি আরব-সমর্থিত সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে এই অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, দেশের বাকি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিয়ে পুরো ইয়েমেনে রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
চলতি সপ্তাহে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, হুথিদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি বাহিনী আকাশপথে বিমান হামলা চালাবে এবং ইয়েমেনি বাহিনী স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে।
এদিকে, সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি বলেন, চলমান সংঘাত কমানোর সব ধরনের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পরই এই পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগের জবাবে হুথিরা উল্টো সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে এবং সংঘাত উসকে দিয়েছে। এ অবস্থায় সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীসহ সব সামরিক ইউনিটকে অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি。
অন্যদিকে, হুথিরা দাবি করেছে যে তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং খুরাইস এলাকায় সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবেই তারা এই হামলা পরিচালনা করেছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, আরামকোর স্থাপনায় এই হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। সে সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে সরিয়ে দিলে, ওই সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। কঠিন সময়ে ইয়েমেনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সৌদি আরবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আল-আলিমি। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও ইয়েমেনের সরকার, সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।




























