হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেনে ৪ উড়োজাহাজ ভর্তি অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ০৫:২৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা হিসেবে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ ভর্তি অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে পাঠানো এই অস্ত্রের চালানটি ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছায়। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে যে, ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে চলমান বহুজাতিক সংঘাতে ইসলামাবাদ ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি রয়েছে। অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং সরকারি সেনাদের সহায়তা দিচ্ছেন।
বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগরের পুরো উপকূলীয় অঞ্চল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাইজ শহরের কাছে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাকে এডেনের সঙ্গে যুক্তকারী একটি সেতু হুতিরা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে সরকারি বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, হুতিরা মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে হুতিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের ওপর ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী সানার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং তাইজে একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার ওপর ২৭টি বিমান হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হুতিরাও পাল্টা জবাবে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য হুতিদের বিরুদ্ধে এই ঐক্যবদ্ধ সহায়তা একটি বড় মাপকাঠি হতে পারে। সৌদি আরবের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র হলেও, তারা হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি। তবে পাকিস্তানের মতো যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবে সামরিক উপদেষ্টা ও অস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে। এদিকে, হুতিদের মোকাবিলায় মিত্র খোঁজার অংশ হিসেবে সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদ সম্প্রতি রিয়াদ সফর করেছেন।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান’ চালিয়েছে।.সৌদি আরব ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ইঙ্গিত দিচ্ছে.এ ছাড়া ইয়েমেনের সাদা শহরের ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এ চুক্তি বাস্তবায়নের পথে হুতিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সহায়তার বিষয়টি হতে পারে প্রথম বড় পরীক্ষা।.১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির, সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ.এখনো সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র।




























