ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যে ‘সমকামী’ সেজে আশ্রয় আবেদন, গ্রেপ্তার ৩ বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের প্রাথমিক তালিকায় জামালপুরের কাশফিয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের নির্দেশ জয়পুরহাটে রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে চিকিৎসকের হাতে স্বজন লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লিতে বিশেষ বার্তা ত্রিবেদীর কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিকের বাবা-মাকে মারধর নিজেদের প্রয়োজনে বিমান কিনছে বাংলাদেশ, কোনো পক্ষকে খুশি করতে নয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশ কটিয়াদীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে জামায়াতের কর্মসূচি ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সাথে বিমান বাংলাদেশের চুক্তি সই

ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার এবং সেখানে জিম্মি করে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার আশকোনা হজ ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

সিআইডি সূত্র জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কাজ করার পর দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই তিনি এই মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। চক্রটি তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে। গত ৫ এপ্রিল ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন।

চুক্তির অংশ হিসেবে তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে মিসরের কায়রোতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখেন। এরপর আগের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ছয় হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই যুবক ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর তাঁকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রাখেন। সেখানে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। সেখানেও তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে চক্রটি পরিবারের কাছে আরও ছয় লাখ টাকা দাবি করে।

পরবর্তী সময়ে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফেরার পর ৫ অক্টোবর তিনি বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সিআইডি এই মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। বর্তমানে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার এবং সেখানে জিম্মি করে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার আশকোনা হজ ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

সিআইডি সূত্র জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কাজ করার পর দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই তিনি এই মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। চক্রটি তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করে। গত ৫ এপ্রিল ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন।

চুক্তির অংশ হিসেবে তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে মিসরের কায়রোতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখেন। এরপর আগের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ছয় হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই যুবক ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর তাঁকে গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রাখেন। সেখানে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। সেখানেও তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে চক্রটি পরিবারের কাছে আরও ছয় লাখ টাকা দাবি করে।

পরবর্তী সময়ে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফেরার পর ৫ অক্টোবর তিনি বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সিআইডি এই মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। বর্তমানে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলাটির তদন্ত চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo