জয়পুরহাটে রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে চিকিৎসকের হাতে স্বজন লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভাতিজীর রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে এক ব্যক্তি চিকিৎসক ও তাঁর সহযোগীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ অক্টোবর রোববার হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হাদুয়াল মামুন জয়পুরহাট সদর উপজেলার সবুজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. এস. এম. মুনিম রমিম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১ অক্টোবর, যখন হাদুয়াল মামুন তাঁর ১৭ বছর বয়সী অসুস্থ ভাতিজী সাদিয়া আফরিন শিফাকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের ২৩৫ নম্বর কক্ষে ডা. মুনিম রমিমের কাছে যান। চিকিৎসক তখন রোগীকে দেখে কিছু পরীক্ষা দেন এবং ৪ অক্টোবর রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোববার হাদুয়াল ভাতিজীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। হাদুয়ালের ভাষ্যমতে, চিকিৎসক কক্ষে না থাকায় তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। চিকিৎসক আসার পর রিপোর্ট দেখার অনুরোধ করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাদুয়াল ভাতিজীকে নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান এবং হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (আরএমও) বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন।
হাদুয়াল মামুন দাবি করেন, দুপুরের দিকে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসক ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের গেটের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও বাম হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত লেগে রক্তপাত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ সময় আতঙ্কে তাঁর অসুস্থ ভাতিজী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় পরিচিত মজনু, আব্দুর রহিম ও গোলজারসহ কয়েকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি বাড়ি ফিরে গেলেও রাতে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজে ঘটনাটি ‘পুলিশ কেস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. এস. এম. মুনিম রমিম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ভুক্তভোগী নির্ধারিত সময়ের পরে এসেছিলেন এবং পরের দিন আসার অনুরোধ জানানোয় তিনি খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজ করেছেন। চিকিৎসকের দাবি, গালিগালাজের পরিমাণ বেশি থাকায় তাঁকে অফিসের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না এসে ক্ষমতার দাপট দেখানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মামুন জানিয়েছেন, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। সিভিল সার্জন আরও জানান, ডা. রমিমকে তিনি আগে থেকেই চেনেন এবং তিনি একজন ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত, তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দেখা হবে।



























