ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় যে কোনো দিন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। ফলে যে কোনো দিন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বর্তমানে চার আসামিই পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্র, ছয়জনকে হত্যা এবং আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের রাজনৈতিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এই পরিকল্পিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যকেও মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে হানিফের নির্দেশে আন্দোলন দমনের কথা উল্লেখ ছিল বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং ২ নভেম্বর বিচারকাজ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ এবং পরবর্তীতে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করে। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে দাবি করেছে যে, কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং আন্দোলন দমনের পরিকল্পিত ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফসহ চার আসামির মামলার রায় যে কোনো দিন

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। ফলে যে কোনো দিন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বর্তমানে চার আসামিই পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্র, ছয়জনকে হত্যা এবং আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের রাজনৈতিক নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এই পরিকল্পিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যকেও মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে হানিফের নির্দেশে আন্দোলন দমনের কথা উল্লেখ ছিল বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং ২ নভেম্বর বিচারকাজ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ এবং পরবর্তীতে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করে। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে দাবি করেছে যে, কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং আন্দোলন দমনের পরিকল্পিত ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din