ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা? গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা বোয়ালমারীর লংকারচর নীচুপাড়ার বাসিন্দারা শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নেপালে হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা ৪৭২, নতুন বন্যার ঝুঁকিতে এলাকা কারওয়ান বাজারে শুরু হলো প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব’ সিলেটে হাম ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত

গণভবনের গোপন নথিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারের টার্গেট প্রোফাইল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেখ হাসিনার ক্ষমতার দুর্গ হিসেবে পরিচিত গণভবন থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যক্তিগত শত্রুদের দমনের জন্য বিশেষ ‘অর্ডার’ দেওয়া হতো। সরকার পতনের পর গণভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত নথিপত্রের মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে নিয়ে তৈরি করা একটি ‘টার্গেট প্রোফাইল’ পাওয়া গেছে, যা তৎকালীন শাসনামলের প্রতিহিংসার চরিত্র উন্মোচন করে। নথিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্ম, শিক্ষা, রাজনৈতিক পরিচয়, সংসদ সদস্য হিসেবে তার ইতিহাস এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ১৩ মার্চ ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণকারী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। নথিতে তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, তিন ভাই গিয়াসউদ্দিন, জামালউদ্দিন ও সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তিন সন্তান হুম্মাম, ফজলুল ও ফারজিন কাদের চৌধুরীর নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ ছিল।

এই নথির গুরুত্ব কেবল ব্যক্তিগত তথ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এই পরিবারের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখতেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘আয়নাঘর ফাইলস’ নামক ডকুমেন্টারিতে অভিযোগ করেন যে, তার বাবার ফাঁসি ও দাফনের সিদ্ধান্ত গণভবন থেকেই নেওয়া হয়েছিল এবং তার শেষ ইচ্ছাও পূরণ করতে দেওয়া হয়নি। বিচারের ক্ষেত্রেও একই প্রতিহিংসার ছাপ স্পষ্ট ছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহপাঠী ও হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারক শামীম হাসনাইনকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি পাকিস্তান থেকে আনা সত্যায়িত শিক্ষাসনদও গ্রহণ করা হয়নি, যেখানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মন্তব্য করেছিলেন ‘পাকিস্তান বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে তাদের কোনো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় স্কাইপ কেলেঙ্কারি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার মেসেজের ঘটনায়। সাইফার মেসেজে চার সাক্ষীকে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ বিচারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমের অডিওতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদের প্রলোভনের বিষয়টিও সামনে আসে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও বলেছিলেন, এই রায় বেলজিয়াম (গণভবন) থেকে এসেছে।

এই প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিল পুরো পরিবার। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে সাত মাস গুম করে রাখা হয়েছিল জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেইসি)। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, যেখানে তাকে ‘ভিআইপি-১’ কোড নামে ডাকা হতো। গণভবনের এই টার্গেট প্রোফাইল এখন জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষিত, যা শেখ হাসিনার শাসনামলের গুম, খুন ও নজরদারির কুখ্যাত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গণভবনের গোপন নথিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারের টার্গেট প্রোফাইল

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার ক্ষমতার দুর্গ হিসেবে পরিচিত গণভবন থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যক্তিগত শত্রুদের দমনের জন্য বিশেষ ‘অর্ডার’ দেওয়া হতো। সরকার পতনের পর গণভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত নথিপত্রের মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে নিয়ে তৈরি করা একটি ‘টার্গেট প্রোফাইল’ পাওয়া গেছে, যা তৎকালীন শাসনামলের প্রতিহিংসার চরিত্র উন্মোচন করে। নথিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্ম, শিক্ষা, রাজনৈতিক পরিচয়, সংসদ সদস্য হিসেবে তার ইতিহাস এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ১৩ মার্চ ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণকারী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। নথিতে তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, তিন ভাই গিয়াসউদ্দিন, জামালউদ্দিন ও সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং তিন সন্তান হুম্মাম, ফজলুল ও ফারজিন কাদের চৌধুরীর নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ ছিল।

এই নথির গুরুত্ব কেবল ব্যক্তিগত তথ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এই পরিবারের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখতেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘আয়নাঘর ফাইলস’ নামক ডকুমেন্টারিতে অভিযোগ করেন যে, তার বাবার ফাঁসি ও দাফনের সিদ্ধান্ত গণভবন থেকেই নেওয়া হয়েছিল এবং তার শেষ ইচ্ছাও পূরণ করতে দেওয়া হয়নি। বিচারের ক্ষেত্রেও একই প্রতিহিংসার ছাপ স্পষ্ট ছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহপাঠী ও হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারক শামীম হাসনাইনকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি পাকিস্তান থেকে আনা সত্যায়িত শিক্ষাসনদও গ্রহণ করা হয়নি, যেখানে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মন্তব্য করেছিলেন ‘পাকিস্তান বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে তাদের কোনো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় স্কাইপ কেলেঙ্কারি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার মেসেজের ঘটনায়। সাইফার মেসেজে চার সাক্ষীকে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ বিচারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমের অডিওতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদের প্রলোভনের বিষয়টিও সামনে আসে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও বলেছিলেন, এই রায় বেলজিয়াম (গণভবন) থেকে এসেছে।

এই প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিল পুরো পরিবার। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে সাত মাস গুম করে রাখা হয়েছিল জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেইসি)। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, যেখানে তাকে ‘ভিআইপি-১’ কোড নামে ডাকা হতো। গণভবনের এই টার্গেট প্রোফাইল এখন জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষিত, যা শেখ হাসিনার শাসনামলের গুম, খুন ও নজরদারির কুখ্যাত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh