অমিত শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করলেন রাহুল গান্ধী
- আপডেট সময় : ১০:৫১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের সংসদের বাদল অধিবেশনে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এক নজিরবিহীন প্রস্তাব দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে বিরোধীদের সঙ্গে টানা ২৪ ঘণ্টা আলোচনার সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ফলে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেন, বিরোধীরা যদি লিখিত আবেদন জমা দেয়, তবে তিনি বুধবার দুপুর ৩টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। সরকারের পক্ষ থেকে লুকানোর কিছু নেই দাবি করে তিনি বলেন, যেকোনো প্রশ্নে জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অধিবেশনের শুরু থেকেই তিনি নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করছেন; বরং বিরোধীরাই সংসদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে নিছক 'লেকচার' আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলছেন তা নিয়ে বিরোধীদের কোনো আগ্রহ নেই। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে এনইইটি (NEET) পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর পুলিশি হামলা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই জবাবদিহি করতে হবে। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, এই নির্দেশ যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়ে থাকেন, তবে তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। রাহুল আরও দাবি করেন, অমিত শাহ বিগত ২০ দিন ধরে সংসদে আসেননি—যদিও অমিত শাহ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনই নয়, রামমন্দির ট্রাস্টের অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগ নিয়েও সংসদে সোচ্চার রয়েছে বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের সাফ কথা, কেবল আলোচনার প্রস্তাব দিলেই হবে না, বিতর্কিত বিষয়গুলোতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজে সংসদে এসে সরাসরি উত্তর দিতে হবে। এর আগে সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও তাতে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বাদল অধিবেশনের অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



























