ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতারণার অভিযোগে সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বিনিয়োগকারীরা ভারতে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক সোনম ওয়াংচুকের শহীদ কাদরীর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’: প্রেম ও দ্রোহের আধুনিক গাথা সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল রফিকুল ইসলামের শেষ বিদায় ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা শাড়ি নিয়ে প্রতারণা মামলায় জামিন পেলেন তানজিন তিশা দীপ্ত টিভিতে আসছে তুর্কি ড্রামা সিরিজ অনন্ত ভালোবাসা গ্যাস সংকটে হাহাকার: চুলা জ্বলছে না ঘরে, পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দিনাজপুরে গাড়ল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকেরা মাতৃত্বই জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক কাজ, বললেন স্মৃতি ইরানি

কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানি হাজি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র কাবা শরিফ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় গিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরাহ ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ১১ আগস্ট বাবা-ছেলে ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।

মক্কার পথে চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর অনুরোধ করে আবদুল লতিফ তার ছেলেকে বলেছিলেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান। বুধবার ভোরে মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন।

ছেলে আরসালানের ভাষ্যমতে, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়ার এক পর্যায়ে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা আবদুল লতিফ পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার সুযোগ না হলেও, জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানি হাজি

আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

পবিত্র কাবা শরিফ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় গিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরাহ ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ১১ আগস্ট বাবা-ছেলে ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।

মক্কার পথে চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর অনুরোধ করে আবদুল লতিফ তার ছেলেকে বলেছিলেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান। বুধবার ভোরে মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন।

ছেলে আরসালানের ভাষ্যমতে, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়ার এক পর্যায়ে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা আবদুল লতিফ পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার সুযোগ না হলেও, জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor