ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, মঙ্গলবার জবাবের আশা আরাগচির নলছিটিতে গাছ না লাগিয়েই ১৮ হাজার বৃক্ষরোপণের ভুয়া প্রতিবেদন সাইবার সুরক্ষা আইন নিপীড়নমূলক হবে না, আশ্বস্ত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের সীমান্ত বাজারে রিভলবার ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে ইউপিএলের দোকানে তালা, ২ কর্মী মুক্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন আলোচনার পথে, মধ্যস্থতায় কাতার দেশে বাড়ছে ধর্ষণ মামলা, তদন্তে মিলছে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা জাপানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুযোগ, মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বৃত্তি তিন পুত্র সন্তানের জননী কল্পনার পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা প্রশাসন বৃষ্টির দাপটে ভারত ও পাকিস্তান সেমিফাইনালে, শঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ

কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানি হাজি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পবিত্র কাবা শরিফ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় গিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরাহ ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ১১ আগস্ট বাবা-ছেলে ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।

মক্কার পথে চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর অনুরোধ করে আবদুল লতিফ তার ছেলেকে বলেছিলেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান। বুধবার ভোরে মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন।

ছেলে আরসালানের ভাষ্যমতে, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়ার এক পর্যায়ে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা আবদুল লতিফ পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার সুযোগ না হলেও, জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানি হাজি

আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

পবিত্র কাবা শরিফ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় গিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরাহ ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ১১ আগস্ট বাবা-ছেলে ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।

মক্কার পথে চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর অনুরোধ করে আবদুল লতিফ তার ছেলেকে বলেছিলেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান। বুধবার ভোরে মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন।

ছেলে আরসালানের ভাষ্যমতে, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়ার এক পর্যায়ে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা আবদুল লতিফ পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার সুযোগ না হলেও, জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor