
পবিত্র কাবা শরিফ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মক্কায় গিয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর চার দিন আগে হঠাৎ ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন আবদুল লতিফ। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরাহ ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। ১১ আগস্ট বাবা-ছেলে ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে তারা মক্কার পথে যাত্রা করেন।
মক্কার পথে চালককে দ্রুত গাড়ি চালানোর অনুরোধ করে আবদুল লতিফ তার ছেলেকে বলেছিলেন, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘর দেখতে চান। বুধবার ভোরে মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন।
ছেলে আরসালানের ভাষ্যমতে, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর তার বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়ার এক পর্যায়ে তিনি বসে পড়েন এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা আবদুল লতিফ পেশায় বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহকারী ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার সুযোগ না হলেও, জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই তিনি দুনিয়ার সফর শেষ করলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২