ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জবি সাংবাদিকতা অ্যালামনাইয়ের নেতৃত্বে নজরুল-রাজু মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় ৪ বাংলাদেশী আটক নেপালে হিমবাহ ধসে নিহত বেড়ে ৫৪৭, নিখোঁজ ৫১৭ বিদেশি শুটিং শুরুর ঠিক আগে প্রিয়াঙ্কার ‘রিসেট’ সিনেমা ছাড়লেন অরল্যান্ডো ব্লুম ৬ মাস ধরে জনসমক্ষে নেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি, বাড়ছে সংশয় শিশুর যত্নে সবচেয়ে পিছিয়ে বাবারা, অংশ নেন মাত্র ৭ শতাংশ শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ না পেয়ে নিজেই উদ্যোক্তা খাদিজা ভোট না দেওয়ার শাস্তি: কলকাতার কলোনিতে এক মাস ধরে পানি বন্ধ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে লেবার পার্টি বার্সেলোনায় যাচ্ছেন না হুলিয়ান আলভারেজ, সাফ জানিয়ে দিল অ্যাটলেটিকো

নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উজানের এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ডে তেমন বৃষ্টির জোরালো তথ্য নেই। এর পরিবর্তে হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে পানির চাপ বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে এই ধরনের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া পাহাড়ি নদীতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে পানির চাপে তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাঁধ ভেঙে গেলে পানির সঙ্গে কাদা ও বড় বড় পাথর নেমে আসে, যা প্রবাহের ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নেপালে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশটি এমন বড় দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে।

নেপালের এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নেপালের সঙ্গে হুবহু এক নয়, তবুও পাহাড়ি এলাকায় পানি জমে থাকা, বাঁধের সক্ষমতা এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি আমাদের বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অঞ্চল, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কাপ্তাই লেক ও এর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি ভূমিকম্পে বাঁধের কোনো দুর্বল জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিপুল পরিমাণ পানি খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে কাপ্তাই শহরসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে লেকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধটি চালুর পর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাঁধটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কাঠামোগত সক্ষমতা, কোথাও কোনো ফাটল বা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে কি না—এগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধের কাঠামো কতটা শক্তিশালী, পানির চাপ কতটা এবং বাঁধ সেই চাপ কতটা নিতে পারছে—এসব বিষয় নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন। নেপালের দুর্যোগকে সামনে রেখে আমাদের পাহাড়ি এলাকার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা?

আপডেট সময় : ১২:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উজানের এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ডে তেমন বৃষ্টির জোরালো তথ্য নেই। এর পরিবর্তে হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে পানির চাপ বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে এই ধরনের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া পাহাড়ি নদীতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে পানির চাপে তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাঁধ ভেঙে গেলে পানির সঙ্গে কাদা ও বড় বড় পাথর নেমে আসে, যা প্রবাহের ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নেপালে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশটি এমন বড় দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে।

নেপালের এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নেপালের সঙ্গে হুবহু এক নয়, তবুও পাহাড়ি এলাকায় পানি জমে থাকা, বাঁধের সক্ষমতা এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি আমাদের বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অঞ্চল, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কাপ্তাই লেক ও এর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি ভূমিকম্পে বাঁধের কোনো দুর্বল জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিপুল পরিমাণ পানি খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে কাপ্তাই শহরসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে লেকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধটি চালুর পর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাঁধটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কাঠামোগত সক্ষমতা, কোথাও কোনো ফাটল বা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে কি না—এগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধের কাঠামো কতটা শক্তিশালী, পানির চাপ কতটা এবং বাঁধ সেই চাপ কতটা নিতে পারছে—এসব বিষয় নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন। নেপালের দুর্যোগকে সামনে রেখে আমাদের পাহাড়ি এলাকার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo