ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে চুল টেনে ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ ভিনিসিয়ুস, খেলা হবে না এল ক্লাসিকো শারদীয় দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু আজ ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নির্ভুল হামলা: বিপর্যস্ত জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি

নারায়ণগঞ্জে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিকশাচালক, পথচারী থেকে শুরু করে শিশুদের দিকে হঠাৎ বন্দুক তাক করে তাঁদের আতঙ্কিত করার এই ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে ভিডিওর নির্মাতাদের দাবি, এটি কোনো বাস্তব অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, বরং মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি একটি ‘ফানি ভিডিও’।

ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক (বর্তমান সিটি পার্ক) এলাকায় ধারণ করা হয়েছে। এর নির্মাতা বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা এবং তাঁর সহযোগী ইয়াসিন, যিনি মূলত ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেন। ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়। পরে এটি লিমনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘ওয়াফি লিমন’-এ শেয়ার করা হয়।

এ বিষয়ে লিমন তোহা জানান, টিকটকের বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখে এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাটক-সিনেমার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই ভিডিওটি বানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। বন্দুক দেখে শুরুতে মানুষ ভয় পেলেও পরে খেলনা বুঝতে পেরে মজা পেয়েছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি, কিন্তু পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।” লিমনের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ সদস্যরাও বিষয়টি দেখেছিলেন এবং খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা কোনো সমস্যা করেননি। পুলিশের প্রতিক্রিয়াও তাঁরা ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন, তবে মান ভালো না থাকায় তা প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অধীনে পড়েছে, তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ভিডিওর বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। তিনি বলেন, “আমাদের কেউ এ বিষয়ে জানায়নি বা কোনো অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তাঁরা বা পার্ক কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু বলেনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্টতা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে বিনোদনের নামে তৈরি করা এই ভিডিওটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক বা ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে হোক, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এই প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মানহানি করা হচ্ছে, যা সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে কী?

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে কালো রঙের বড় দুটি বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রিকশাচালক, পথচারী থেকে শুরু করে শিশুদের দিকে হঠাৎ বন্দুক তাক করে তাঁদের আতঙ্কিত করার এই ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে ভিডিওর নির্মাতাদের দাবি, এটি কোনো বাস্তব অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, বরং মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি একটি ‘ফানি ভিডিও’।

ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক (বর্তমান সিটি পার্ক) এলাকায় ধারণ করা হয়েছে। এর নির্মাতা বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা এবং তাঁর সহযোগী ইয়াসিন, যিনি মূলত ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেন। ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়। পরে এটি লিমনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘ওয়াফি লিমন’-এ শেয়ার করা হয়।

এ বিষয়ে লিমন তোহা জানান, টিকটকের বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখে এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাটক-সিনেমার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই ভিডিওটি বানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। বন্দুক দেখে শুরুতে মানুষ ভয় পেলেও পরে খেলনা বুঝতে পেরে মজা পেয়েছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি, কিন্তু পরে তাঁরা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।” লিমনের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ সদস্যরাও বিষয়টি দেখেছিলেন এবং খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তাঁরা কোনো সমস্যা করেননি। পুলিশের প্রতিক্রিয়াও তাঁরা ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন, তবে মান ভালো না থাকায় তা প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অধীনে পড়েছে, তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ভিডিওর বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। তিনি বলেন, “আমাদের কেউ এ বিষয়ে জানায়নি বা কোনো অভিযোগও দেয়নি। সিটি পার্ক এলাকায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তাঁরা বা পার্ক কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু বলেনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্টতা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে বিনোদনের নামে তৈরি করা এই ভিডিওটিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, খেলনা অস্ত্র দিয়ে হোক বা ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে হোক, কাউকে ভয়ভীতি দেখানো এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এই প্যানিক তৈরির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মানহানি করা হচ্ছে, যা সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo