নেপালে হিমবাহ ধসে নিহত বেড়ে ৫৪৭, নিখোঁজ ৫১৭ বিদেশি
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

হিমালয়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে নেপাল পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর কিছুক্ষণ আগে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৩৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল।
এনডিআরআরএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজে বর্তমানে পুলিশের ৪ হাজার ৪৭৩ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমবাহ ধসে বিলীন হয়ে যাওয়া মূল এলাকায় চীনের উদ্ধারকারীরা পৌঁছেছেন। সেখানে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রতিকূল। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, তিব্বতের সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র গিরং কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে তলিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর ২১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বুধবারের এই দুর্যোগে তিব্বতে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং সেখানে এখনো ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উদ্ধার অভিযান নিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিনহুয়া আরও জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী এলাকায় হিমবাহ, বরফাবৃত হ্রদ এবং ভূমিধসজনিত দুর্যোগের অনেক সুপ্ত ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে, যা উদ্ধারকাজকে চরম প্রতিকূলতার মুখে ফেলছে।
বুধবার কাদাধসের পর পানি আটকে উজানে একটি বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, যা ধসে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হ্রদ থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং উদ্ধার অভিযান শৃঙ্খলার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এর আগে হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল।



























