ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে জাপানি সাংবাদিক গ্রেপ্তার রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার আগে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কেন নীরব ছিল সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধৈর্য ও আল্লাহর স্মরণে মুমিনের করণীয় প্রথম ভারতীয় সুপারস্টার অশোক কুমারের জীবন ও ক্যারিয়ারের অজানা কথা আখাউড়া প্রশাসনে বহিরাগত ‘পাবলিক পেশকার’ আমজাদের দাপট বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট ও চ্যাম্পিয়নস লিগের আজকের সূচি আজ ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে জোর ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল

রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার আগে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কেন নীরব ছিল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে গত এক সপ্তাহে চালানো টানা চারটি সামরিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এসব প্রাণঘাতী হামলার আগে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও দেশে শান্ত ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ব্যবস্থা কার্যত নীরব রেখেছিল সৌদি সরকার। তবে সামরিক হামলার বিষয়ে আগে থেকে সতর্ক করলে সহিংসতার চিত্র প্রকাশ্যে চলে আসত, যা শান্ত পরিস্থিতির বার্তা দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারত।

রিয়াদে এই ধারাবাহিক হামলার আগে কেন জনগণকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চারজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একই সঙ্গে সামরিক অভিযান পরিচালনা ও দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টার ফলেই সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাগরিক ও দর্শনার্থীদের রক্ষা করার সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি শিক্ষাবিদ ও মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আলামের বলেন, সৌদি সরকার মূলত দুই দিক বজায় রাখতে চাইছে—একদিকে সামরিক অভিযান চালানো, অন্যদিকে দেশের মানুষ ও বাইরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা ধরে রাখা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সতর্কবার্তার অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘সিভিল ডিফেন্স’ মূলত এসব আগাম সতর্কবার্তা জারি করে থাকে। সংস্থাটির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্ট অনুযায়ী, মে মাসে তারা মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক হুমকির আগাম তথ্য জানানো শুরু করলেও গত সপ্তাহের হামলাগুলোর আগে হুতিদের আক্রমণ বাড়া সত্ত্বেও সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যায়। ২৯শে সেপ্টেম্বরের পর তারা সামরিক বিষয়ে আর কোনো বার্তা দেয়নি, যেখানে কেবল দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার ক্ষেত্রে সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি অব্যাহত ছিল। কেন সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ ছিল, তা জানতে সিভিল ডিফেন্স ও সৌদি মিডিয়া অফিসে ই-মেইল পাঠিয়েও কোনো সাড়া পায়নি রয়টার্স।

পরবর্তী সময়ে সোমবার রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করে আবার নতুন বার্তা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। ২৯শে সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সামরিক সতর্কবার্তা। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী হামলার কারণেই এই সতর্কতা ফের চালু করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের কোনো মন্তব্য মেলেনি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেই ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে। তবে অন্যান্য দেশ ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেছে; যেমন কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় প্রতিটি হামলার আগেই মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা দিয়ে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গত জুলাইয়ের হামলার সময়ও তারা এই নির্দেশ দিয়েছিল। একইভাবে বাহরাইন ও কুয়েতও ক্রমাগত সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রিয়াদে প্রাণঘাতী হামলার আগে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কেন নীরব ছিল

আপডেট সময় : ০৯:২৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে গত এক সপ্তাহে চালানো টানা চারটি সামরিক হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এসব প্রাণঘাতী হামলার আগে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালেও দেশে শান্ত ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ব্যবস্থা কার্যত নীরব রেখেছিল সৌদি সরকার। তবে সামরিক হামলার বিষয়ে আগে থেকে সতর্ক করলে সহিংসতার চিত্র প্রকাশ্যে চলে আসত, যা শান্ত পরিস্থিতির বার্তা দেওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারত।

রিয়াদে এই ধারাবাহিক হামলার আগে কেন জনগণকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চারজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একই সঙ্গে সামরিক অভিযান পরিচালনা ও দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টার ফলেই সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাগরিক ও দর্শনার্থীদের রক্ষা করার সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি শিক্ষাবিদ ও মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক ফেলো সুলতান আলামের বলেন, সৌদি সরকার মূলত দুই দিক বজায় রাখতে চাইছে—একদিকে সামরিক অভিযান চালানো, অন্যদিকে দেশের মানুষ ও বাইরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা ধরে রাখা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সতর্কবার্তার অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা ‘সিভিল ডিফেন্স’ মূলত এসব আগাম সতর্কবার্তা জারি করে থাকে। সংস্থাটির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্ট অনুযায়ী, মে মাসে তারা মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক হুমকির আগাম তথ্য জানানো শুরু করলেও গত সপ্তাহের হামলাগুলোর আগে হুতিদের আক্রমণ বাড়া সত্ত্বেও সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যায়। ২৯শে সেপ্টেম্বরের পর তারা সামরিক বিষয়ে আর কোনো বার্তা দেয়নি, যেখানে কেবল দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার ক্ষেত্রে সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি অব্যাহত ছিল। কেন সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ ছিল, তা জানতে সিভিল ডিফেন্স ও সৌদি মিডিয়া অফিসে ই-মেইল পাঠিয়েও কোনো সাড়া পায়নি রয়টার্স।

পরবর্তী সময়ে সোমবার রিয়াদ ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করে আবার নতুন বার্তা জারি করে সৌদি সিভিল ডিফেন্স। ২৯শে সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সামরিক সতর্কবার্তা। তবে রিয়াদ বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী হামলার কারণেই এই সতর্কতা ফের চালু করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের কোনো মন্তব্য মেলেনি। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেই ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে। তবে অন্যান্য দেশ ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেছে; যেমন কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় প্রতিটি হামলার আগেই মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা দিয়ে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। গত জুলাইয়ের হামলার সময়ও তারা এই নির্দেশ দিয়েছিল। একইভাবে বাহরাইন ও কুয়েতও ক্রমাগত সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin