হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইরানে হামলা কমে আসার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন একটি যুদ্ধের ময়দানে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল তেল আবিব। তবে সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত দেশটির শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জনগণের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় যুবরাজ এই সামরিক অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, সৌদি জনমতের বিষয়টি রিয়াদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিষয়টির সাথে অবগত অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রত্যাশা ছিল এই সামরিক সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথ সুগম করবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তবুও রিয়াদ এখনো ফিলিস্তিন সংকটের সুরাহা ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগে ইসরাইলের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনে অনাগ্রহী। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করার অঙ্গীকার করেছেন।
এই প্রস্তাবের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এদিকে, হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ শনিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থা সৌদিগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে।
উল্লেখ্য যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, তাই তার অনুমোদন ছাড়া ইয়েমেনের যুদ্ধে ইসরাইলের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তবুও নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎকালে দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এমনকি ওই বছরের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার আগের কয়েক সপ্তাহে গাজায় সংঘাত বিস্তৃত হওয়া এড়াতে নেতানিয়াহুর প্রচেষ্টার পেছনে সৌদি আরবের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টিও একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই নেতানিয়াহুকে আগে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

























