কাজের মাধ্যমে ‘ছায়া সিটি করপোরেশন’ গড়ার ঘোষণা সেলিম উদ্দিনের
- আপডেট সময় : ০৬:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা বা ছায়া সরকারের আদলে এবার ‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কাজের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের সামনে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনার বাস্তব রূপ তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিচালিত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরতে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নাগরিকদের সরাসরি যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম উদ্দিন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সাধারণ নাগরিকদের শহরের পরিচ্ছন্নতার জন্য ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামতে হবে? এটি কি সিটি করপোরেশনের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? তিনি মন্তব্য করেন, যখন সাধারণ মানুষকে নিজেদের উদ্যোগে ঝাড়ু হাতে নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর একই ধরনের নাগরিক সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। অনেক পরিকল্পনা ও কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না। এর ফলে নাগরিক সেবা পাওয়ার অধিকার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির যে শৃঙ্খল থাকা প্রয়োজন ছিল, তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন সেলিম উদ্দিন। সেখানে তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের কাজের মান, নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সংকটের পুনরাবৃত্তির কারণসহ পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত জবাব দাবি করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চলমান ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে ফেলার জন্য বিন বা ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পায়, তবে এমনভাবে কাজ করা হবে যা নিয়ে সরকার বিশ্বদরবারে গর্ব করতে পারবে। সেই সঙ্গে ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সিটি নির্বাচনের কথা বলা হলেও এখন আর কোনো টালবাহানা বা ‘মেকানিজম’ কাজে আসবে না। যত সময়ই নেওয়া হোক না কেন, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরিষ্কার দাবি—সবার আগে সিটি নির্বাচন দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা কোনো মেরুদণ্ডহীন বা মাজাভাঙা নির্বাচন কমিশন দেখতে চাই না। কমিশনের কর্মকর্তাদের কারও পা-চাটা হওয়া বন্ধ করে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সিটি নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা ব্যর্থতার চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যদি প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে চায়, তবে জামায়াতে ইসলামীকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে দেখতে পারে। দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন। ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্তত একবার দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছরের জন্য সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আর আমরা ঢাকাকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ رضاউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকারসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।





























