
নেপালে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উজানের এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ডে তেমন বৃষ্টির জোরালো তথ্য নেই। এর পরিবর্তে হিমবাহ হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে পানির চাপ বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে এই ধরনের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া পাহাড়ি নদীতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে পানির চাপে তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাঁধ ভেঙে গেলে পানির সঙ্গে কাদা ও বড় বড় পাথর নেমে আসে, যা প্রবাহের ধ্বংসক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নেপালে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশটি এমন বড় দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে।
নেপালের এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। যদিও বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি নেপালের সঙ্গে হুবহু এক নয়, তবুও পাহাড়ি এলাকায় পানি জমে থাকা, বাঁধের সক্ষমতা এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি আমাদের বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত অঞ্চল, বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। এই অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কাপ্তাই লেক ও এর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি ভূমিকম্পে বাঁধের কোনো দুর্বল জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বিপুল পরিমাণ পানি খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে কাপ্তাই শহরসহ আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে লেকে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এমন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধটি চালুর পর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মাথায় রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাঁধটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর কাঠামোগত সক্ষমতা, কোথাও কোনো ফাটল বা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে কি না—এগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধের কাঠামো কতটা শক্তিশালী, পানির চাপ কতটা এবং বাঁধ সেই চাপ কতটা নিতে পারছে—এসব বিষয় নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন। নেপালের দুর্যোগকে সামনে রেখে আমাদের পাহাড়ি এলাকার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২